header

🄯 Made by devolskii

logo

স্পেনে পরাজয়ের কারণগুলি প্রসঙ্গে আরও একবার (মার্চ, ১৯৩৯) – লিঁয় ট্রটস্কি

জানুয়ারি ২০২৪


স্পেনে পরাজয়ের কারণগুলি প্রসঙ্গে আরও একবার (মার্চ, ১৯৩৯) – লিঁয় ট্রটস্কি
ফলতঃ, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রলেতারিয়েত এবং দরিদ্রতম কৃষকদের লড়াই সামাজিক অর্থে রক্ষণাত্মক নয়, বরঞ্চ কেবলমাত্র আক্রমণাত্মক হতে পারে।

ছাতার উদ্ভাবক

একজন বৃদ্ধ ফরাসী হাস্যরসবিদ একবার একজন পেটি বুর্জোয়া কিভাবে ছাতা আবিষ্কার করেছিল তার একটা বর্ণণা লিখেছিলেন। বৃষ্টির সময় রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে সে ভাবতে শুরু করেছিল যে রাস্তাগুলি যদি ছাদ দিয়ে ঢাকা থাকত তবে তা কত ভালই না হত.... কিন্তু বাতাসের অবাধ যাতায়াতের পথে তা বাধা সৃষ্টি করত..... পথচারীকেই তার হাতে কোন এক ধরণের লিভার ধরে এটাকে চালনা করতে হবে, ইত্যাদি ইত্যাদি। শেষতঃ, আমাদের আবিষ্কারক চিৎকার করে বলে উঠলেন, “বাহ! কেন, এটা একটা ছাতা!” ছাতার উদ্ভাবকদের আজকাল প্রতিটি পদক্ষেপে “বামপন্থীদের” মধ্যে দেখতে পাওয়া যায় ।

তার সময়ে, বলশেভিকবাদ বেশ কিছু বছর ধরে সংস্কারবাদী রাজনীতির মর্যাদাহানি করে দিয়েছিল, কিন্তু প্রতিক্রিয়ার আবির্ভাবের সাথে, স্ট্যালিনবাদীরা তাদের সমস্ত আজ্ঞাধীনদের সঙ্গে একসাথে নতুন করে সংস্কারবাদের ছাতা আবিষ্কার করতে শুরু করেছে: “পপুলার ফ্রন্ট” (বুর্জোয়াদের সাথে কোয়ালিশন), গণতান্ত্রিক পিতৃভূমিকে রক্ষা করবার জন্য প্রলেতারিয়েতের কর্তব্য (সামাজিক দেশপ্রেম); এবং তাই, এবং তারা এটা করে অজ্ঞতার সমস্ত শক্তি দিয়ে ।

নতুন আবিষ্কৃত অন্য ছাতা

মেক্সিকোর সংবাদপত্র এল পপুলার (El Popular), যে তার পাণ্ডিত্যের প্রগাঢ়তা, তার চিন্তার সততা এবং তার রাজনীতির বিপ্লবী চরিত্রের জন্য আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেছে, সেখানে, গুইলেরমো ভেগাস লিওন ( Guillermo Vegas Leon), যিনি আমাদের পাঠকদের কাছে সর্বতোভাবে পরিচিত, একটি নতুন আবিষ্কৃত ছাতার সাহায্যে স্পেনীয় পপুলার ফ্রন্টের কর্মসূচীর সমর্থনে আবির্ভূত হয়েছেন। স্পেনের যুদ্ধ, আপনারা অবগত আছেন, সমাজতন্ত্রের জন্য যুদ্ধ নয়, বরঞ্চ তা ফ্যাসীবাদের বিরুদ্ধে একটা যুদ্ধ। ফ্যাসীবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কারখানা এবং জমি দখলের মতো হঠকারিতার সামিল হওয়াটা অনুমোদনযোগ্য নয়। কেবলমাত্র ফ্যাসীবাদের বন্ধুরাই এই ধরণের পরিকল্পনা প্রস্তাব করার যোগ্য এবং ইত্যাদি। ঐতিহাসিক ঘটনাবলী সস্তার সংবাদপত্রের জগতে বাস করা লোকেদের উপর নিশ্চিতভাবেই কোন প্রভাব বিস্তার করে না ।

মি. লিওন অবহিত নন যে এই একই ছাতা রুশ মেনশেভিক এবং সোস্যাল রেভলিউশনারী (কেরেনস্কির পার্টি)-দের ক্রিয়াকলাপে ব্যবহৃত হয়েছিল। রুশ বিপ্লব ছিল 'গণতান্ত্রিক' এবং সমাজতান্ত্রিক নয়, একথা বার বার বলতে তারা কখনো ক্লান্তি বোধ করে নি, জার্মানির সাথে যুদ্ধের সময়, যা নবজাতক গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রকে বিপদগ্রস্ত করেছিল, উৎপাদনের উপকরণের দখল নেওয়ার মত হঠকারিতায় যুক্ত হওয়ার মত কোন প্রচেষ্টা হোহেনজোলানকে সাহায্যে করে। এবং এই বিবেচনা থেকে তাদের মধ্যে কম কিছু ইতর ছিল না যারা এটা দাবী করেছিল যে বলশেভিকরা এই সব কিছু করেছিল কিছু গোপন কারণের জন্য।

বিপ্লবের শ্রেণী চরিত্র

একটা বিপ্লব “ফ্যাসি-বিরোধী” নাকি প্রলেতারীয়, বুর্জোয়া বা সমাজতান্ত্রিক, তা নির্ধারিত হয় রাজনৈতিক লেবেল দিয়ে নয় বরঞ্চ সেই দেশটির শ্রেণী কাঠামোর দ্বারা। লিয়নের জন্য, উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝির নিকটবর্তী সময় থেকে সমাজের বিকাশ অলঙ্কিত থেকে গেছে। আরো, পুঁজিবাদী দেশগুলিতে এই বিকাশ ক্ষুদ্র এবং মাঝারি বুর্জোয়াদের অবলুপ্ত করে দিয়েছে, তাদেরকে পিছনের সারিতে ঠেলে দিয়েছে এবং হীন ও অবমাননাকর অবস্থার মধ্যে তাদেরকে নিক্ষিপ্ত করেছে। আধুনিক সমাজের মুখ্য শ্রেণীগুলি হল--- স্পেন সহ---বুর্জোয়া এবং প্রলেতারিয়েত। পেটি বুর্জোয়া---- যে কোন অবস্থায় একটা দীর্ঘ পর্যায়ের জন্য ক্ষমতা দখল করতে পারে না; তা অবশ্যই বুর্জোয়দের হাতে অথবা প্রলেতারিয়েতের হাতে থাকবে। স্পেনে, বুর্জোয়ারা, তার সম্পত্তির ভয়ে তাড়িত হয়ে, সম্পূর্ণভাবে ফ্যাসীবাদের শিবিরে চলে গেছে। একমাত্র প্রলেতারিয়েতই ফ্যাসীবাদের বিরুদ্ধে একটা সত্যিকারের লড়াই লড়তে সমর্থ। একমাত্র সেই নিপীড়িত জনগণকে, সর্বোপরি, স্পেনীয় কৃষককে সমাবেশিত করতে পারত। কিন্তু শ্রমিক শ্রেণীর ক্ষমতা কেবলমাত্র সমাজতান্ত্রিক ক্ষমতাই হতে পারে।

চীন এবং রাশিয়ার উদাহরণ

কিন্তু মি. লিওন আপত্তি করছেন, আশু লক্ষ্য হচ্ছে ফ্যাসীবাদের বিরুদ্ধে লড়াই। আমাদের সমস্ত শক্তি এই আশু লক্ষ্যে কেন্দ্রীভূত হবে, ইত্যাদি ইত্যাদি। অবশ্যই, অবশ্যই। কিন্তু মিনতি করছি, আমাদেরকে বলো যে ফ্যাসীবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় যারা সবাই ফ্রাঙ্কোর শিবিরে আছে, কেন সেই জমিদারদের কাছে জমি এবং পুঁজিপতিদের কাছে কারখানা এবং মিলগুলি থাকবে? সম্ভবতঃ কারণ কৃষক এবং শ্রমিকেরা জমি এবং কারখানাগুলি দখলের জন্য “পরিপক্ক হয়ে ওঠে নি?” কিন্তু নিজস্ব উদ্যোগে জমি এবং কারখানাগুলি দখল করে তারা তাদের পরিপক্কতার প্রমাণ দিয়েছে। প্রতিক্রিয়াশীলরা, যারা নিজেদের রিপাবলিকান বলে, স্ট্যালিনবাদীদের নেতৃত্বের অধীনে থেকে “ফ্যাসিবাদ বিরোধিতা”-র নামে এই শক্তিশালী আন্দোলনকে দমন করতে সক্ষম হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে তা করা হয়েছে বুর্জোয়া মালিকানার স্বার্থে।

অন্য একটা উদাহরণ নেওয়া যাক। বর্তমানে চীন জাপানের বিরুদ্ধে একটা যুদ্ধে লিপ্ত আছে, লুঠেরা এবং অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে একটা ন্যায্য এবং আত্মরক্ষামূলক যুদ্ধ। এই যুদ্ধের ছুতায়, স্ট্যালিনের সরকারের সাহায্যে চিয়াং-কাই-শেকের সরকার সমস্ত বিপ্লবী সংগ্রাম এবং সর্বোপরি কৃষকদের জমির জন্য সংগ্রামকে দমন করেছে। শোষকরা এবং স্ট্যালিনবাদীরা বলে: “এখন কৃষি প্রশ্নের সমাধান করার সময় নয়, এখন প্রশ্নটা মিকাডোর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের”। এটা স্বতঃপ্রমাণিত যে এখন বর্তমান সময়ে নির্দিষ্ট ভাবে যদি চীনের কৃষকরা জমির মালিক হত তবে জাপ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে বীরত্বের সাথে তাকে রক্ষার জন্য তারা লড়ত। আমরা অবশ্যই অরো একবার স্মরণ করবো যে সবচেয়ে শক্তিশালী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলির আক্রমণকারী বাহিনীসহ অসংখ্য শত্রুদের বিরুদ্ধে তিন বছরব্যাপী যুদ্ধে অক্টোবর বিপ্লব যে জিততে সমর্থ হয়েছিল তার কারণ এই বিজয় সর্বোপরি এই ঘটনার দ্বারা নিশ্চিত হয়েছিল যে যুদ্ধের সময়ে কৃষকরা জমির মালিকানা অর্জন করেছিল, যখন শ্রমিকরা মিল এবং কারখানাগুলি দখলে রেখেছিল। সমাজতান্ত্রিক ওলটপালটের সাথে গৃহযুদ্ধের মেলবন্ধন রুশ বিপ্লবকে অপরাজেয় করে তুলেছিল।

মি. লিওনের মত ভদ্রলোকেরা বুর্জোয়া উদারনৈতিকদের দেওয়া নাম থেকে একটা বিপ্লবের চরিত্রকে নির্ধারণ করেন এবং যে রকমে তা বাস্তব শ্রেণী সংগ্রামের মধ্যে প্রকাশিত হয় অথবা বিপ্লবী জনতার দ্বারা যেভাবে তা অনুভূত হয়-- এমনকি যদিও সর্বদা তা পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় না -- সেভাবে তা করেন না। কিন্তু আমরা স্পেনীয় বিপ্লবকে উদারনৈতিক, বাক্যবাগীশ আজানার চোখ দিয়ে দেখি না বরঞ্চ বার্সিলোনা ও আস্তরিয়ার শ্রমিকরা ও সেভিলের কৃষকরা যারা মিল এবং কারখানার জন্য, জমির জন্য, একটা আরো উন্নত ভবিষ্যতের জন্য লড়ছিল এবং পপুলার ফ্রন্টের পুরনো পার্লামেন্টারী ছাতার জন্য একেবারেই লড়ছিল না তাদের চোখ দিয়ে দেখি ।

“ফ্যাসিবাদ-বিরোধিতা”র শূন্যগর্ভ বিমূর্তন

“ফ্যাসিবাদ-বিরোধিতা” এবং “ফ্যাসিবাদ-বিরোধী”-র ধারণাগুলি হচ্ছে মিথ্যা এবং অলীক কাহিনী। মার্কসবাদ সমস্ত কিছুকেই শ্রেণী দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বিচার করে। আজানা ততটাই “ফ্যাসিবাদ-বিরোধী” যতটা ফ্যাসীবাদ বুর্জোয়া বুদ্ধিজীবীদের পার্লামেন্টারী অথবা অন্যান্য জীবিকা অর্জনে বাধা দেয়। ফ্যাসীবাদ এবং প্রলেতারীয় বিপ্লবের মধ্যে কোনটাকে বেছে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার মুখোমুখি হলে আজানা সর্বদাই ফ্যাসীবাদীদের পক্ষে থাকবে বলে প্রমাণিত হবে। সাত বছরের বিপ্লবের সময়ে তার সমস্ত নীতি তা প্রমাণ করছে।

অন্য দিকে, “ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, গণতন্ত্রের পক্ষে” এই শ্লোগান লক্ষ লক্ষ, কোটি কোটি জনতাকে আকৃষ্ট করতে পারে না, কেননা যুদ্ধের সময়ে রিপাবলিকানদের শিবিরে গণতন্ত্র আগেও ছিল না বা এখনো নেই। ফ্রাঙ্কো এবং আজানা উভয়ের সাথেই আছে সামরিক একনায়কত্ব, সেন্সরশিপ, বাধ্যতামুলক যুদ্ধে যোগদান, ক্ষুধা, রক্ত এবং মৃত্যু! “গণতন্ত্রের জন্য” এই বিমূর্ত শ্লোগান উদারনৈতিক সাংবাদিকদের জন্য যথেষ্ট কিন্তু নিপীড়িত শ্রমিক এবং কৃষকদের জন্য নয়। তাদের দাসত্ব এবং দারিদ্র্য ছাড়া রক্ষা করার আর কিছু নেই। তারা তাদের সমস্ত শক্তি ফ্যাসিবাদকে ধ্বংস করার জন্য চালিত করবে যদি একই সঙ্গে তাদের জীবনযাত্রার পরিবেশকে নতুন এবং আরো উন্নত করতে তারা সমর্থ হয়। ফলতঃ, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রলেতারিয়েত এবং দরিদ্রতম কৃষকদের লড়াই সামাজিক অর্থে রক্ষণাত্মক নয়, বরঞ্চ কেবলমাত্র আক্রমণাত্মক হতে পারে। সুতরাং আরো “প্রামাণিক” পণ্ডিতম্মন্যদের অনুসরণ করে লিওন আরো ভ্রমাত্মক হন যখন তিনি আমাদের সামনে বক্তৃতা করেন যে মার্কসবাদ কাল্পনিকতাকে বাতিল করে এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের সময় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের চিন্তা হচ্ছে কাল্পনিক। বাস্তবত: কাল্পনিকতার সবচেয়ে খারাপ এবং সবচেয়ে প্রতিক্রিয়াশীল রূপ হচ্ছে এই ধারণা যে ফ্যাসীবাদী অর্থনীতিকে উচ্ছেদ না করে ফ্যাসীবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম সম্ভবপর।

জয়লাভ সম্ভবপর ছিল

এই সমস্ত লোকেদের সম্পূর্ণ অজ্ঞতাটা হচ্ছে সত্যিই বিস্ময়কর। মার্কস, এঙ্গেলস থেকে শুরু করে একটা বিশ্ব সাহিত্য আছে যেখানে গণতান্ত্রিক বিপ্লবের আভ্যন্তরীণ শ্রেণী বিক্রিয়াকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, এর অস্তিত্ব সম্বন্ধে এদের সামান্য ধারণা নেই। এটা নিশ্চিত যে তারা কখনোই কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকের প্রথম চারটি কংগ্রেসের মূল দলিলগুলো অথবা চতুর্থ আন্তর্জাতিকের তাত্ত্বিক গবেষণা পড়ে নি, যেগুলো প্রমাণ করে এবং ব্যাখ্যা করে এবং এমনকি একজন শিশুকেও এটা বুঝতে সমর্থ করে যে ফ্যাসীবাদের বিরুদ্ধে বর্তমান পরিস্থিতিতে লড়াই, ক্ষমতা দখলের জন্য প্রলেতারীয় শ্রেণী সংগ্রামের পদ্ধতিগুলি ছাড়া অন্য কোন উপায়ে চিন্তা করা যায় না।

এইসব ভদ্রলোকরা ইতিহাসকে এভাবে চিত্রিত করে যেন সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের জন্য যত্নশীলভাবে পরিস্থিতি প্রস্তুত করা হচ্ছে, দায়িত্ব ভাগাভাগি করা হচ্ছে, একটা বিজয় তোরণে বড় অক্ষরে লেখা হচ্ছে: সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের জন্য প্রবেশপথ, বিজয়ের নিশ্চয়তা দেওয়া হচ্ছে এবং তারপর নম্রভাবে সম্মানীয় নেতাদের মন্ত্রীত্বের, রাষ্ট্রদূতের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলি গ্রহণ করবার জন্য আমন্ত্রণ করা হচ্ছে। না, প্রশ্নটাকে অন্যভাবে দেখতে হবে, এটা আরো জটিল, কঠিন এবং বিপজ্জনক। সুবিধাবাদীরা, প্রতিক্রিয়াশীল মাথামোটারা এবং পেটি বুর্জোয়া কাপুরহারা সেই পরিস্থিতিকে কখনো স্বীকৃতি দেয় নি বা কখনো স্বীকৃতি দেবেও না যা সমাজতান্ত্রিক ওলটপালটকে আলোচ্য বিষয় হিসেবে হাজির করে। এটা করবার জন্য একজনকে অবশ্যই বিপ্লবী মার্কসবাদী, একজন বলশেভিক হতে হবে, এটা করতে একজনকে অতি অবশ্যই “শিক্ষিত” পেটি বুর্জোয়াদের সার্বজনীন মতামত, যা কিনা কেবলমাত্র পুঁজিবাদের আত্মশ্লাঘা পূর্ণ শ্রেণীভীতিকে প্রতিফলিত করে তাকে অবশ্যই ঘৃণা করতে সমর্থ হতে হবে।

প্রলেতারিয়েত যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল

সিএনটি (CNT) এবং এফএআই (FAI)-র নেতারা মে, ১৯৩৭-এর অভ্যুত্থানের পরে নিজেরাই ঘোষণা করেছেন: “যদি আমরা ইচ্ছা করতাম, যে কোন সময়ে আমরা ক্ষমতা দখল করতে পারতাম, কেননা সমস্ত শক্তিগুলিই আমাদের পক্ষে ছিল, কিন্তু আমরা কোন একনায়কত্ব চাই নি,” ইত্যাদি, ইত্যাদি। বুর্জোয়াদের নৈরাজ্যবাদী পরিচারকরা কি চেয়েছিল বা চায় নি তা শেষ বিচারে একটা গৌণ প্রশ্ন। যাই হোক না কেন, তারা স্বীকার করেছে যে অভ্যুত্থানকারী প্রলেতারিয়েত ক্ষমতা দখল করার মত যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল। যদি বেইমান নেতৃত্বের বদলে তাদের একটা বিপ্লবী নেতৃত্ব থাকত তবে রাষ্ট্রযন্ত্র থেকে সমস্ত আজানাদের তারা বার করে দিতে পারত, সোভিয়েতের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করতে পারত, কৃষকদের জমি দিতে পারত, শ্রমিকদের দিতে পারত মিল এবং কারখানাগুলি এবং স্পেনীয় বিপ্লব হয়ে উঠত সমাজতান্ত্রিক এবং অজেয়।

কিন্তু যেহেতু স্পেনে কোন বিপ্লবী পার্টি ছিল না এবং তার বদলে ছিল বহুসংখ্যক প্রতিক্রিয়াশীলরা যারা নিজেদের সমাজতন্ত্রী এবং নৈরাজ্যবাদী বলে কল্পনা করত, তারা পপুলার ফ্রন্টের লেবেলের অধীনে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবকে গলা টিপে মারতে সফল হয়েছিল এবং ফ্রাঙ্কোর বিজয়কে নিশ্চিত করেছিল।

ইটালীয় ফ্যাসিস্ট এবং জার্মান নাজীদের সামরিক হস্তক্ষেপকে এবং ফরাসী ও ব্রিটিশ “গণতন্ত্রের” বিশ্বাসঘাতী আচরণকে অজুহাত করে পরাজয়ের ন্যায্যতা প্রতিপাদন করাটা হাস্যকর ছাড়া কিছু নয় । শত্রুরা সবসময়ই শত্রু থাকবে। প্রতিক্রিয়া যখনই পারবে সর্বদাই হস্তক্ষেপ করবে। সাম্রাজ্যবাদী “গণতন্ত্র” সর্বদাই বেইমানি করবে। এর মানে দাঁড়ায় সাধারণভাবে প্রলেতারিয়েতের বিজয় অসম্ভব। কিন্তু ইতালি ও জার্মানীতে ফ্যাসীবাদের জয়ের ব্যাপারটা কি বলা যাবে? সেখানে কোন হস্তক্ষেপ ছিল না। বরঞ্চ সেখানে আমাদের একটি শক্তিশালী প্রলেতারীয় এবং একটি বেশ বড় সোস্যালিস্ট পার্টি ছিল এবং জার্মানীর ক্ষেত্রে আবার একটা বড় কমিউনিস্ট পার্টি ছিল। তাহলে সেখানে ফ্যাসীবাদের বিরুদ্ধে জয়লাভ করা গেল না কেন? কারণ নির্দিষ্টভাবে সেখানে নেতৃত্বদায়ী দলগুলি এই উভয় দেশেই প্রশ্নটাকে “ফ্যাসীবাদ বিরোধী লড়াই”-এ তাকে অবনমিত করার চেষ্টা করেছিল যেখানে কেবলমাত্র সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবই ফ্যাসীবাদকে পরাস্ত করতে পারে।

স্পেনীয় বিপ্লব ছিল মহত্তম বিদ্যালয়। এর থেকে আহাত শিক্ষা-র প্রতি বিন্দুমাত্র ছেলেমানুষি দেখানোটা একেবারেই অনুমোদনযোগ্য নয়। ভুয়া পণ্ডিতিয়ানা, বুকনিবাজি, আত্মতৃপ্ত অজ্ঞতা এবং বৌদ্ধিক পরজীবীপনা ধ্বংস হোক। আমরা অবশ্যই আন্তরিকভাবে এবং সততার সাথে অধ্যয়ন করবো এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হবো ।

সূচি

  • ছাতার উদ্ভাবক
  • নতুন আবিষ্কৃত অন্য ছাতা
  • বিপ্লবের শ্রেণী চরিত্র
  • চীন এবং রাশিয়ার উদাহরণ
  • “ফ্যাসিবাদ-বিরোধিতা”র শূন্যগর্ভ বিমূর্তন
  • জয়লাভ সম্ভবপর ছিল
  • প্রলেতারিয়েত যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল