বইমেলায় গৌতম পালের নেতৃত্বাধীন মিলিট্যান্ট গোষ্ঠী কর্তৃক 'নয়া আন্তর্জাতিক প্রকাশনী'র স্টলে হামলার বিরুদ্ধে সকলে সোচ্চার হন
মার্চ ২০২৩

এবারের কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার শেষ দিনে ঘটে গেল এক ন্যক্কারজনক ঘটনা। গৌতম পালের নেতৃত্বাধীন ভুয়া ট্রটস্কীবাদী মিলিট্যান্ট সংগঠন আমাদের স্টলে হামলা চালায়। যদিও আমরা সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় হামলাকারীদের প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছি এবং সমস্ত ধরনের সংগঠন ও সংস্থাই হামলাকারীদের বিরুদ্ধে নিন্দায় সরব হয়েছে তবুও আরও বৃহত্তর অংশের মানুষের কাছে এই খবর পৌঁছে দেওয়া আমরা প্রয়োজন বলে মনে করছি এবং কেন দেউলিয়া গৌতম পাল এই হামলা চালাল তা ব্যাখ্যা সহকারে সকলের কাছে হাজির করাটা আমরা জরুরী বলে মনে করছি।
সকলেই জানেন ২০১৫ সালের আগে গৌতম পাল আমাদের সংগঠনে ছিল। ২০১৫ সালের ২৪ মে শান্তিপুরে পার্টির একটি অনুষ্ঠান সে তৃণমূলের সঙ্গে যৌথভাবে সংঘটিত করে। যদিও কংগ্রেস, বিজেপি সকলকেই সে ডেকেছিল কিন্তু কংগ্রেস, বিজেপি না আসাতে সেই অনুষ্ঠানটি তৃণমূলের সাথে যৌথ অনুষ্ঠানে পরিণত হয়। ট্রটস্কীবাদী রাজনীতির সাথে তার এই বেইমানীর কারণে তাকে পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হয়। ও যে সম্পূর্ণভাবে অধঃপতিত হয়েছিল তা পরবর্তীকালে ওর আচরণে প্রমাণিত হয়েছিল। যে দুষ্কর্ম সে করেছিল তার জন্য কোন অনুতাপ তো দূরের কথা, বরঞ্চ পার্টির নাম ভাড়িয়ে নিজের একটা ব্যক্তিগত গোষ্ঠী সে গড়ে তোলে। ওর অধঃপতন এমন পর্যায়ে যায় যে ওর হেফাজতে পার্টির যে বইপত্র এবং সম্পত্তি ছিল তা ও পার্টিকে ফেরত দিতে অস্বীকার করে এবং সেগুলোকে সে নিজের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত করে। ওকে বারবার সেগুলো ফেরত দিতে বলা হলেও সে তা আজ পর্যন্ত ফেরত দেয়নি। অথচ পার্টির বিভিন্ন কর্মীকে সে ‘বইচোর’ বলে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। 'চোরের মায়ের বড় গলা’ বোধহয় একেই বলে। ওর ‘সুযোগ্য' শিষ্যরাও ওর পদাঙ্ক অনুসরণ করে পার্টির বই নিজেদের সম্পত্তিতে পরিণত করেছে। সেগুলো ফেরত দেবার কোন আগ্রহ তারা দেখায়নি। আর আজ এইসব চোরেরাই অন্যদেরকে চোর বলে অভিহিত করছে।
এইসব তো গেল একরকম বিষয়। ওদের সংগঠন এখন একটা ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। আমাদের সংগঠন থেকে মহিলাকর্মীদের সাথে দুষ্কর্মের দায়ে বহিষ্কৃত দুই ব্যক্তি এখন ওদের সংগঠনের ‘সম্মানিত' নেতা হয়ে অবস্থান করছে। এসব অবশ্য গৌতমের কাছে জলভাত। কারণ ও বরাবরই দুষ্কৃতীদের সাথে সংগঠন করতে অভ্যস্ত। ওর অতীত ইতিহাস যারা জানে তারা আমাদের কথা বুঝতে পারবে। ওর সেই বদভ্যাস এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ওদের সংগঠনে নবাগত কিছু যুবককে ও এখন দুষ্কৃতী বানানোর চেষ্টা করছে। সেইসব যুবকেরা দুষ্কৃতী বনবে নাকি তারা বিপ্লবী রাজনৈতিক কর্মী হবে সেই সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে। কারণ তাদের ভবিষ্যত তাদেরই হাতে।
গৌতম বরাবরই রাজনৈতিকভাবে সুবিধাবাদী। ও বা ওর সংগঠনের কারোরই মার্কসবাদী তত্ত্ব সম্পর্কে কোন ধারণা নেই। একটা সংগঠন ওরা বানিয়েছে যাকে 'ট্রটস্কীবাদী' বলে ওরা দাবি করে, কিন্তু ট্রটস্কীবাদের কিছুই ও জানে না। ওর সংগঠনেরও কেউ কিছু জানে না। মার্কসবাদী তত্ত্বের কিছুই ওরা পড়েনি যা ওদের লেখাপত্র পড়লে বা কার্যকলাপ দেখলে বোঝা যায়। কিছুদিন আগে ওরা একটা যুব সংগঠন (যার নাম YCL ) বানায় যাকে তারা পার্টি থেকে স্বাধীন বলে দাবি করে এবং এটা নাকি মার্কসবাদসম্মত বলে ও গলা ফাটায়। এর বিরুদ্ধে আমরা যখন তথ্য ও তত্ত্ব সহকারে একটি প্রবন্ধ লিখি তখন কিছু গালাগাল দেওয়া ছাড়া পাল্টা কিছু ও লিখে উঠতে পারেনি। পারবে কি করে? ইতিহাসের শিক্ষার উল্টো দিকে হাঁটলে তাকে তো চুপ করে যেতেই হবে। নীরবতাই হয়ে দাঁড়ায় অশিক্ষিতদের বাঁচার শ্রেষ্ঠ অবলম্বন।
এরপর কবিতা কৃষ্ণণকে মার্কসবাদ শেখাতে গিয়ে ওরা নিজেদের মার্কসবাদ সম্পর্কিত অজ্ঞতাকে প্রকাশ করে ফেলল। আর ট্রটস্কীর বক্তব্যকে বিকৃত করে যা লিখল তা ট্রটস্কীবাদকে কবরে পাঠিয়ে দেবার পক্ষে যথেষ্ট। এরকম ট্রটস্কীবাদী' যদি থাকে তবে ট্রটস্কীবাদের সর্বনাশকে আর আটকায় কে! এর বিরুদ্ধে আমরা যখন কলম ধরলাম তখনও আমরা লক্ষ্য করলাম কিছু গালাগালি দেওয়া ছাড়া ওরা নীরবতা পালন করল। তত্ত্বগতভাবে কতটা দেউলিয়া হলে এরকম আচরণ কেউ করতে পারে। তবে সাম্প্রতিক কৃষক আন্দোলন নিয়ে ওদের বক্তব্য ট্রটস্কীবাদের দফারফা করে ছেড়েছে। স্ট্যালিনবাদী-মাওবাদীদের মত ওরাও কুলাকদের আন্দোলনের জয়গান গেয়েছে, লেজুরবৃত্তি করেছে কুলাকদের। অথচ মার্কসবাদী তত্ত্ব সম্পর্কে যাদের কিছুমাত্র ধারণা আছে, ধারণা আছে ট্রটস্কীবাদী রাজনীতি সম্পর্কে, তারা অন্য কিছু ভাবত। ভারতে পুঁজিবাদের বিকাশ, কুলাকদের উত্থান এবং কৃষিপণ্যের বাজার তাদের দখলে যাওয়া, এমএসপি বা কৃষিপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি কিভাবে শহরাঞ্চলের শ্রমিক শ্রেণী, গ্রামাঞ্চলের কৃষিমজুর ও গরীব কৃষক ও অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষের ক্ষতি করে তা যদি ভুয়া ট্রটস্কীবাদী গৌতম বা তার মিলিট্যান্ট গোষ্ঠী বুঝত তবে স্ট্যালিনবাদীদের মত কুলাকদের লেজুড়বৃত্তি করত না। ওদের অজ্ঞতা এবং মূর্খতা ওদেরকে কুলাকদের কোলে ঠেলে দিয়েছে এবং ট্রটস্কীবাদী' রাজনীতিকে কালিমালিপ্ত করেছে। তাই ট্রটস্কীবাদী রাজনীতিকে কালিমামুক্ত করতে আমরা সাম্প্রতিক কৃষক আন্দোলন নিয়ে প্রবন্ধ লিখেছি ও প্রকাশ করেছি। যা স্ট্যালিনবাদী মাওবাদীদের তো বটেই ভূয়া ট্রটস্কীবাদী মিলিট্যান্ট গোষ্ঠীরও মুখোস খুলে দিয়েছে। বেআব্রু করে দিয়েছে ওদের সুবিধাবাদকে।
এইসব কারণেই গৌতম হয়ে উঠেছে হিংস্র। রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া গৌতম না পারছে আমাদের বিরুদ্ধে লড়তে, না পারছে কারো কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে। কাজেই ঐসব প্রশ্নের উত্তর যাতে ওকে না দিতে হয় তাই আমাদের সাথে সংঘাত বাঁধিয়ে ওর কর্মীদের ও সমস্ত প্রশ্নের থেকে দূরে সরিয়ে দিতে চাইছে। ও চাইছে ওর কর্মীরা এইসব গণ্ডগোল নিয়ে ব্যস্ত থাকুক, কোনরকম কোন রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা যাতে তাদের মধ্যে না থাকে। তা হলে কোন প্রশ্নও তারা করবে না, গৌতম এবং ওর দুই সাগরেদ তা হলে ওদের নেতাগিরি চালিয়ে যেতে পারবে।
সম্প্রতিকালে কমঃ অসীম মজুমদার ও এক যুব কমরেডের সাথে ওরা যে আচরণ করেছে তা ওদের অগণতান্ত্রিক, স্বৈরাচারী চরিত্রকে প্রকাশ করে দিয়েছে। একজন ব্যক্তির সাথে কথাবার্তা বলার জন্য কমঃ অসীম মজুমদারের বিরুদ্ধে ওদের পার্টিতে নিন্দা প্রস্তাব আনা হয়েছিল। ভূভারতে কেউ কোনদিন শুনেছে এসব! যাদেরকে স্বৈরাচারী বলে ওরা গাল দেয় তারাও তো এসব করে না। ওরা কি স্বৈরাচারী হবার প্রতিযোগিতায় স্ট্যালিনবাদীদেরও হার মানাবে? আর যুব কমরেডের ঘটনা! সে অসীম মজুমদারের সাথে ঘটা অন্যায় আচরণের প্রতিবাদ করায় তাকেও আত্মপক্ষ সমর্থনের কোন সুযোগ না দিয়ে বহিষ্কার করে দেয়। এরা ট্রটস্কীবাদী! ট্রটস্কীবাদের নামে কলঙ্ক লেপনের জন্য ওরা নিজেদের ট্রটস্কীবাদী বলে পরিচয় দিচ্ছে। ওদের মুখোশ খুলে দিতে হবে।
আমাদের বোঝা দরকার নিজের সংগঠনের ভেতরে যারা স্বৈরাচার চালায়, বাইরের সংগঠনের বিরুদ্ধেও তারা আলাদা কিছু করবে না। যাদের সাথেই ওদের মতপার্থক্য হোক না কেন তাদের নোংরা গালিগালাজ করা এবং শারীরিকভাবে হেনস্থা করা ওদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ট্রটস্কীবাদের সাথে এসবের কোন সম্পর্ক নেই। বরং স্ট্যালিনবাদীদের সাথে ওদের এইসব আচরণের সম্পূর্ণ মিল খুঁজে পাওয়া যায়। এইসব কারণেই ওদেরকে আমরা ভূয়া ট্রটস্কীবাদী বলি। ওরা রাজনীতিতে এবং আচরণে সম্পূর্ণভাবেই স্ট্যালিনবাদী। ট্রটস্কীবাদের বদনাম করার জন্য ওরা ট্রটস্কীবাদের মুখোশ পড়েছে। ওদের সম্বন্ধে সকলে সতর্ক হোন, অন্যদের সতর্ক করুন। বই মেলার ঘটনায় ওদের স্বৈরাচারী এবং বিপ্লবীদের বিরুদ্ধে হিংসাশ্রয়ী রাজনীতি সম্পূর্ণ প্রকাশ পেয়ে গেছে। ওদের জনগণের থেকে বিচ্ছিন্ন করুন এবং প্রকৃত মার্কসবাদ-লেনিনবাদ তথ্য টেন্ডীবাদের পক্ষে দাঁড়ান।
সংগ্রামী অভিনন্দনসহ
কমিউনিস্ট লীগ (চতুর্থ আন্তর্জাতিকতাবাদী)
