header

🄯 Made by devolskii

logo

কবিতা কৃষ্ণাণের উদারনৈতিক ‘মার্কসবাদ’ এবং মিলিট্যান্ট গোষ্ঠীর ভুয়ো ট্রটস্কিবাদ

অক্টোবর ২০২২


কবিতা কৃষ্ণাণের উদারনৈতিক ‘মার্কসবাদ’ এবং মিলিট্যান্ট গোষ্ঠীর ভুয়ো ট্রটস্কিবাদ
সিপিআইএমএল (লিবারেশন) একটা স্ট্যালিনবাদী দল। তাদের নেতারা যে উদারনৈতিক গণতন্ত্রের গুণগান গাইবে, এ আর নতুন কথা কি!

আবোল-তাবোল বকাটা মিলিট্যান্ট গোষ্ঠীর বহু পুরনো অভ্যাস! মার্কসবাদী রাজনীতিতে অশিক্ষিত এই গোষ্ঠীটি কোথায় নিজেকে সংশোধিত করবে, তা না, কবিতা কৃষ্ণাণের ভুল ধরতে তারা এখন বেরিয়ে পড়েছে। সিপিআইএমএল (লিবারেশন) একটা স্ট্যালিনবাদী দল। তাদের নেতারা যে উদারনৈতিক গণতন্ত্রের গুণগান গাইবে, এ আর নতুন কথা কি! ফ্যাসিবাদী আক্রমণের বিরুদ্ধে ভারতবর্ষের ‘মহান সংবিধান কে রক্ষার দায় তারা নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছে। সুতরাং তাদেরই দলের এক নেত্রী যে ‘উদারবাদী গণতন্ত্রের’ পতাকা তুলে ধরবেন তাতে আর আশ্চর্য হবার কি আছে। যেরকম দল তার সেরকমই নেত্রী। কিন্তু মিলিট্যান্ট গোষ্ঠী হঠাৎ এতে এত উত্তেজিত হয়ে পড়ল কেন বোঝা মুশকিল। কবিতা কৃষ্ণাণ কি তাদের ভবিষ্যৎ অবস্থানকে দখল করে নিয়েছেন বলে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে, নাকি আবোল-তাবোল কিছু বকে নিজেদের দর বাড়ানোর চেষ্টা করছে?

মিলিট্যান্ট গোষ্ঠীর ভাবখানা এমন যেন তারা মার্কসবাদের বিপ্লবী সত্তাকে রক্ষার জন্য সোচ্চার হয়েছেন। কিন্তু সেটা করতে গেলে তো বিপ্লবী হতে হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যৌথ অনুষ্ঠান করে তো আর বিপ্লবী হওয়া যায় না বা লিবারেশন কেন তৃণমূলকে ভোট দিতে বলল বলে তাদের সমালোচনা করা যায় না। ভণ্ডামিরও তো একটা সীমা থাকা দরকার।

শুধু তাই নয়, রাজনৈতিক ইতিহাস সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ এই গোষ্ঠীটি ভুলভাল বকে কিভাবে বুর্জোয়াদের মহিমান্বিত করছে দেখুন। তারা লিখেছে—“পুঁজিবাদী গণতন্ত্রের উদীয়মান যুগে এই ধরনের গণতন্ত্র সাধারণ মানুষকে সার্বজনীন ভোটাধিকারের মতো বেশ কিছু গণতান্ত্রিক অধিকার দিয়েছিল, যা সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থার তুলনায় অবশ্যই প্রগতিশীল ছিল।” মিলিট্যান্ট গোষ্ঠী এই তথ্য কোথা থেকে পেল যে পুঁজিবাদী গণতন্ত্র উদীয়মান যুগে সাধারণ মানুষকে সার্বজনীন ভোটাধিকার দিয়েছিল? রুশ বিপ্লবের পূর্বে (অর্থাৎ মিলিট্যান্ট গোষ্ঠীর ভাষায় 'লেট ক্যাপিটালিজমের' যুগের আগে) ব্রিটেন, আমেরিকা অর্থাৎ পুঁজিবাদী গণতন্ত্রের নেতৃত্বকারী দেশগুলিতে তো নারীদের ভোটাধিকারই ছিল না। তাহলে তারা সাধারণ মানুষকে সার্বজনীন ভোটাধিকার দিল কোথায়? নাকি মিলিট্যান্ট গোষ্ঠীর চোখে নারীরা মানুষ নয়। অজ্ঞতা কিভাবে বুর্জোয়াদের মহিমান্বিত করার দিকে মূর্খদের নিয়ে যায় !

এই জড়বুদ্ধি মুর্খগুলো ‘বাম' পার্টিগুলোর উদারবাদের দিকে ঢলে পড়ার বা অবক্ষয়ের কারণ হিসেবে বলেছে যে যেহেতু আজ বুর্জোয়া পার্টিগুলি সাম্রাজ্যবাদের যুগে কর্তৃত্ববাদী” হয়ে উঠেছে তাই ‘উদারনৈতিক' মানুষেরা নাকি 'বাম' পার্টিগুলোতে ভিড় করছে, আর সেইসব উদারনৈতিকদের চাপে নাকি 'বাম' পার্টিগুলো উদারনৈতিক পথের দিকে যাচ্ছে। এই অভূতপূর্ব ব্যাখ্যা সুবিধাবাদকে খুবই সমৃদ্ধ করেছে সন্দেহ নেই, কিন্তু ট্রটস্কীবাদের ভেকধারী এই মূর্খগুলো জবাব দেবে কি তাহলে লেনিন বর্ণিত জরেসবাদ সাম্রাজ্যবাদী যুগের আগেই কিভাবে ‘বাম’ আন্দোলনে প্রাধান্য বিস্তার করল! এইসব জড়বুদ্ধিগুলোর মূর্খামিতে সত্যিই অবাক হতে হয়। এসবকি নিছকই মূর্খামি! নাকি নতুন নতুন তত্ত্ব আবিষ্কারের সামাজিক আইনস্টাইনবাদ মিলিট্যান্ট গোষ্ঠীতে মাথা চাড়া দিয়েছে। এইসব মূর্খগুলো জানেই না যে আজ যে সুবিধাবাদ এত প্রাধান্য বিস্তার করেছে তার অন্যতম কারণ হচ্ছে প্রলেতারিয়েতের মধ্যে একটি অভিজাত স্তর সৃষ্টি হয়েছে, যারা সাম্রাজ্যবাদ প্রদত্ত উচ্ছিষ্টপ্রাপ্ত হয়ে পুঁজিবাদী ব্যবস্থার ধারক ও বাহক হয়ে উঠেছে। এরাই হচ্ছে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাসী ও স্ট্যালিনবাদের অন্যতম ভিত্তি। (আমলাতান্ত্রিক শ্রমিক রাষ্ট্রগুলোতে অবশ্য স্ট্যালিনবাদের অন্যতম ভিত্তি হচ্ছে আমলাতন্ত্র, যা কিনা প্রলেতারিয়েতের মধ্য থেকেই উদ্ভূত হয়েছে)।

মিলিট্যান্ট গোষ্ঠী যে এসব কিছুই বোঝে না তার উদাহরণ হচ্ছে আমলাতন্ত্র ও প্রলেতারিয়েতের মধ্যে সম্পর্ক প্রসঙ্গে তাদের অবস্থান। তারা বলছে—“কিন্তু পরবর্তীতে একটি অনুন্নত দেশ হিসেবে সোভিয়েত ইউনিয়নের অবস্থা তথা বিশ্ব বিপ্লবের ব্যর্থতার কারণে স্তালিনের নেতৃত্বে আমলাতন্ত্রের উত্থানকে প্রায় অনিবার্য করে তোলে, যা একাধারে কর্তৃত্ববাদী-একনায়কতান্ত্রিক একটি শাসনব্যবস্থা আর অন্যদিকে প্রলেতারীয় শ্রেণীর প্রতিনিধিত্বকারীও বটে।” একদিকে তারা কর্তৃত্ববাদী-একনায়কতান্ত্রিক আর অন্যদিকে প্রলেতারীয় শ্রেণির প্রতিনিধিত্বও করছে। এরকম সোনার পাথরবাটি হয় কি করে। প্রলেতারীয় শ্রেণীকে তারা যদি প্রতিনিধিত্বই করে তবে তারা কর্তৃত্ববাদী একনায়কতন্ত্রী হয় কি করে? আসলে ট্রটস্কীর রাজনৈতিক চিন্তাধারার কিছুই মিলিট্যান্ট বোঝে না, বা তাকে চরমভাবে তারা বিকৃত করছে। আমলাতন্ত্র মোটেই প্রলেতারীয় শ্রেণীকে প্রতিনিধিত্ব করে না। তারা প্রলেতারীয় শ্রেণীর একটা সুবিধাভোগী অংশ মাত্র। যারা সমস্ত ক্ষমতা স্বহস্তে কুক্ষিগত করে প্রলেতারীয় শ্রেণীর অধিকাংশের রাজনৈতিক গণতন্ত্রকে কেড়ে নেয় এবং তাদের ক্ষমতাহীন করে। (আমলাতন্ত্রকে ট্রটস্কি অভিহিত করেছেন সাম্রাজ্যবাদ-পুঁজিবাদের এজেন্ট হিসেবে) আসলে মিলিট্যান্ট গোষ্ঠী যা বোঝে না তাহল বুর্জোয়া রাষ্ট্র যেরকম বিভিন্ন ধরনের হয়, প্রলেতারীয় রাষ্ট্রও সেরকম হতে পারে। সামরিক একনায়কত্বমূলক, ব্যক্তি একনায়কত্বমূলক, পার্লামেন্টারী গণতন্ত্রী বা ফ্যাসিবাদী ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের বুর্জোয়া রাষ্ট্র আমরা দেখেছি। সেরকমই প্রলেতারীয় একনায়কত্ব যেমন রাশিয়ায় ১৯১৭ থেকে ১৯২৪-এর পর্যায়ে আমরা একরকম দেখেছি যা কিনা সোভিয়েত গণতন্ত্র পুষ্ট ছিল, যেখানে শ্রমিক দলগুলির অস্তিত্ব ছিল, তেমনি আবার লেনিন পরবর্তীকালে স্ট্যালিন ও তার পরবর্তী সময়ে ১৯৯০ পর্যন্ত রাশিয়াকে দেখেছি যখন সোভিয়েত গণতন্ত্র বা শ্রমিক দলগুলির অস্তিত্ব ছিল না। দুটোই প্রলেতারীয় একনায়কত্ব, কিন্তু তাদের রূপ আলাদা। আবার চীনে ১৯৪৯ থেকেই আমলাতান্ত্রিকভাবে বিকৃত শ্রমিক রাষ্ট্র রয়েছে। সেখানে কোনকালেই সোভিয়েত গণতন্ত্র বা শ্রমিক দলগুলির অস্তিত্ব ছিল না। আমাদের বুঝতে হবে আমলাতান্ত্রিক ভাবে বিকৃত এবং অধঃপতিত স্ট্যালিনীয় রুশ রাষ্ট্র প্রলেতারীয় একনায়কত্ব বটে কিন্তু আমলাতন্ত্র প্রলেতারীয় শ্রেণীস্বার্থকে প্রতিনিধিত্ব করত না, বরঞ্চ প্রলেতারীয় শ্রেণীর অধিকাংশকে ক্ষমতাচ্যুত করে তার সুবিধাভোগী স্তরের স্বৈরাচারকে কায়েম করেছিল। মিলিট্যান্ট গোষ্ঠীকে বলব অন্যকে জ্ঞান বিতরণ না করে নিজেরা বরং মার্কসবাদী তত্ত্বের চর্চা করুন। তাতে লাভ হবে।

এরপরে অবশ্য তারা আরো মারাত্মক একটি কথা বলেছেন যা তাদের ইতিহাসবোধ এবং ট্রটস্কীবাদী রাজনীতি সম্পর্কে ধারণা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দেয়— “আমরা মনে করি স্তালিন এবং মাও জমানা তথা তাদের উত্তরাধিকারীদের গোটা পর্যায়টিই একনায়কতান্ত্রিক শাসনেরই উদাহরণ। কিন্তু এটা শুধুমাত্র স্তালিন বা মাও-এর সমস্যা নয়। বরং সমস্যাটি আসলে হল আমলাতন্ত্রের, যা কমরেড লেনিনের মৃত্যুর পর একটি গৃহযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্তালিনকে তাদের নেতা হিসেবে মনোনীত করে ক্ষমতা দখল করে।”

অদ্ভুত কথা! এর আগে তারা রাশিয়ার তৎকালীন রাষ্ট্রকে একই সাথে আমলাতান্ত্রিক এবং প্রলেতারিয়েত শ্রেণীর প্রতিনিধিত্বকারী বলেছিলেন। যদি তাই হয় তবে গৃহযুদ্ধটা কে কার বিরুদ্ধে করল? গৃহযুদ্ধে তো ন্যূনতম দুটো পক্ষ লাগবে। আমলাতন্ত্র যদি স্তালিনকে তাদের নেতা হিসেবে মনোনীত করে গৃহযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে ক্ষমতা দখল করে থাকে তবে তারা সেই গৃহযুদ্ধ কার বিরুদ্ধে করেছিল? জানি মিলিট্যান্ট গোষ্ঠীর কাছে এর কোন জবাব নেই। ১৯১৮ থেকে ২১ পর্যন্ত রাশিয়াতে একটা গৃহযুদ্ধ হয়েছিল প্রলেতারিয়েত-এর সাথে সাম্রাজ্যবাদীদের মদতপুষ্ট রুশ বুর্জোয়ার। কিন্তু লেনিনের মৃত্যুর পর গৃহযুদ্ধ আমলাতন্ত্র কার সাথে করল? এ বিষয়ে নীরবতা বুঝিয়ে দেয় মিলিট্যান্ট গোষ্ঠীর ট্রটস্কীবাদী রাজনীতি সম্পর্কে জ্ঞানের অভাবকে। আসলে আমলাতন্ত্র এই যুদ্ধটা করেছিল প্রলেতারীয় শ্রেণীর অগ্রণী অংশের বিরুদ্ধে। যাকে পরাস্ত করেই তারা ক্ষমতা দখল করেছিল। এ বিষয়ে ট্রটস্কী কি বলছেন শুনুন—“সুতরাং স্ট্যালিনের বর্তমান আধিপত্য কোনভাবেই বিপ্লবের প্রাথমিক বছরগুলির সময়কার সোভিয়েত শাসনের মতো নয়। এক শাসনতন্ত্রের বদলে অন্য শাসনতন্ত্রের প্রতিস্থাপন একটা কোন ধাক্কায় সংঘটিত হয়নি বরঞ্চ হয়েছিল সারি সারি ব্যবস্থাবলীর মাধ্যমে ছোট ছোট গৃহযুদ্ধের সমষ্টির দ্বারা যা আমলাতন্ত্র প্রলেতারিয়েতের অগ্রণী অংশের বিরুদ্ধে সংঘটিত করেছিল। শেষ ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সামাজিক দ্বন্দ্বগুলির চাপে সোভিয়েত গণতন্ত্র উবে গিয়েছিল, ঐ দ্বন্দ্বগুলিকে কাজে লাগিয়ে গণসংগঠনগুলির হাত থেকে আমলাতন্ত্র ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছিল। এই অর্থে আমরা আমলাতন্ত্রের একনায়কত্ব, এমনকি স্ট্যালিনের ব্যক্তিগত একনায়কত্ব সম্পর্কে বলতে পারি। কিন্তু এই দখলীকরণ যে সম্ভব হয়েছিল এবং সে যে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে পেরেছিল তার কারণ আমলাতন্ত্রের একনায়কত্বের সামাজিক অন্তর্বস্তু নির্ধারিত হয়েছিল সেইসব উৎপাদন সম্পর্কের দ্বারা যা প্রলেতারীয় বিপ্লবের ফলে সৃষ্ট হয়েছিল। এই অর্থে সম্পূর্ণ ন্যায্যতা সহকারে আমরা বলতে পারি যে প্রলেতারীয় একনায়কত্ব আমলাতান্ত্রিক একনায়কত্বের মধ্যে তারা বিকৃত কিন্তু সন্দেহাতীত প্রকাশ খুঁজে পেয়েছিল।” (দি ওয়ার্কার্স স্টেট, থার্মিডর অ্যান্ড বোনাপার্টিজম—লিয় ট্রটস্কী, ফেব্রুঃ ১৯৩৫— ট্রটস্কী ইন্টারনেট আর্কাইভ)।

তাহলে ট্রটস্কী আমলাতান্ত্রিক একনায়কত্বকে প্রলেতারীয় একনায়কত্বের বিকৃত প্রকাশ বলছেন। এর অর্থ কি মিলিট্যান্ট গোষ্ঠী বোঝে? আমলাতন্ত্র কখনোই প্রলেতারীয় শ্রেণীর স্বার্থকে প্রতিনিধিত্ব করে না। আন্তর্জাতিক সাম্যবাদী সমাজ গঠনের যে লক্ষ্য রয়েছে প্রলেতারিয়েতের তার সাথে যোজন মাইল দূরত্ব এই আমলাতন্ত্রের। তারা বিশ্ব বিপ্লবের বিরোধী এবং স্বৈরাচারী জাতীয়তাবাদী। তারা প্রলেতারীয় অগ্রণী অংশের বিরুদ্ধে গৃহযুদ্ধ চালিয়েছিল এবং প্রলেতারীয় গণসংগঠনগুলির ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছিল। তাই রাশিয়ায় এই আমলাতন্ত্রকে উচ্ছেদ করার জন্য প্রলেতারিয়েতের রাজনৈতিক বিপ্লবের আহ্বান জানিয়েছিলেন ট্রটস্কী। এছাড়া সেখানে সমাজতন্ত্রের পথে আর অগ্রগতি সম্ভব ছিল না বলে তিনি মনে করতেন। তিনি এটাও বলেছিলেন যে যদি প্রলেতারিয়েত সেই বিপ্লব না করতে পারে তবে রাশিয়ায় পুঁজিবাদ আবার ফিরে আসবে। ১৯৯০-র দশকে রাশিয়ায় ঠিক সেটাই হয়েছে।

মিলিট্যান্ট গোষ্ঠী এবারে কি বুঝতে পেরেছে যে আমলাতন্ত্র প্রলেতারীয় শ্রেণীর প্রতিনিধি ছিল না এবং সে গৃহযুদ্ধটা কার বিরুদ্ধে করেছিল এবং কাদের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছিল।

মিলিট্যান্ট গোষ্ঠীর আবোল-তাবোল বকুনি কিন্তু এখানেই শেষ হয়নি। একদম শেষের দিকে তারা বলছে—“প্রকৃতপক্ষে স্তালিনের নেতৃত্বে আমলাতন্ত্রের স্বৈরশাসন এবং ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করার স্বার্থে বুর্জোয়া দলগুলোর সাথে সহযোগিতার লাইন আসলে একই রাজনৈতিক ভ্রান্তি থেকে উদ্ভূত— তা হল, শ্রমিক আন্তর্জাতিকের অনুপস্থিতির রাজনৈতিক সমস্যা। মার্কসবাদী-লেনিনবাদী রাজনৈতিক মতবাদের প্রাথমিক কথাটাই হল শ্রমিকশ্রেণী চরিত্রগতভাবেই আন্তর্জাতিক। অথচ স্তালিনবাদ এর সম্পূর্ণ বিপরীতটাকেই দেখায়। জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই স্তালিন-মাও নেতৃত্বাধীন আমলাতন্ত্রকে স্বভাবতই আরও বেশি কর্তৃত্ববাদী হতে হয়েছিল। অন্যদিকে এই জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গিই আবার ফ্যাসিবাদ ঠেকানোর নামে সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর সাথে সহযোগিতার রাজনৈতিক লাইন আমদানি করে শ্রমিক আন্তর্জাতিকতার প্রতিও বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল।”

কি অবিশ্বাস্য হাবিজাবি! এসব পাগলের প্রলাপ নাকি নির্বোধের কথন বোঝা মুশকিল। ট্রটস্কীবাদের নাম করে কি ব্যাবসা ফেঁদে বসেছে মিলিট্যান্ট গোষ্ঠী তা এবারে একটু খোলসা করা দরকার।

তারা বলছে আমলাতন্ত্রের স্বৈরশাসন এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বুর্জোয়া দলগুলির সাথে সহযোগিতার লাইন নাকি শ্রমিক আন্তর্জাতিকের অনুপস্থিতির রাজনৈতিক সমস্যা থেকে উদ্ভূত। এসব কথার মানে কি বোঝা মুশকিল। আমলাতন্ত্রের স্বৈরশাসন এই কারণে উদ্ভূত হয় তা আমরা আজ প্রথম জানছি। ট্রটস্কী আমাদের শিখিয়েছেন বিশ্ববিপ্লবের ব্যর্থতা, রুশ সমাজের পশ্চাদপদতা, রুশ শ্রমিকশ্রেণীর হতাশা, নিষ্ক্রিয়তা যা বিশ্ব বিপ্লবের ব্যর্থতা এবং রাশিয়ার চরম অর্থনৈতিক দুর্দশা থেকে উদ্ভূত হয়েছিল, রুশ বিপ্লবের নিঃসঙ্গতা - এসব কারণ থেকেই রাশিয়ায় আমলাতন্ত্রের উদ্ভব ঘটেছিল। শ্রমিক আন্তর্জাতিকের অভাবের কারণে রাশিয়ায় আমলাতন্ত্রের স্বৈরশাসন কায়েম হয়েছিল এসব ব্যাখ্যা মিলিট্যান্ট গোষ্ঠীর আবিষ্কার নাকি। রাশিয়ায় যখন আমলাতন্ত্রের উদ্ভব ঘটছে তখন তো তৃতীয় আন্তর্জাতিক বহাল তবিয়তে অস্তিত্ববান ছিল। তা কি লেখক ভুলে গেছেন? নাকি চতুর্থ আন্তর্জাতিকের অভাবের কথা লেখক বলছেন? কিন্তু ১৯৩২-এর আগে ট্রটস্কী তো নতুন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠার ডাক দেননি। তাহলে? লেখক আদৌ এসব তথ্য বা ইতিহাস জানেন কি? আশা করি মিলিট্যান্ট গোষ্ঠী এসবের জবাব দেবে। লেখক আরো দাবি করেছেন জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই আমলাতন্ত্রকে আরো বেশি কর্তৃত্ববাদী হতে হয়েছিল। ঘটনাটা কি আসলে তাই? রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করবার লক্ষ্যে আরো বেশি কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠাটা কি জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে হয়েছিল নাকি আমলাতন্ত্রের বিশেষ সুবিধাকে রক্ষার জন্যে হয়েছিল? আমলাতন্ত্রের বিশেষ সুবিধাভোগী অবস্থানকে টিকিয়ে রাখা এবং তাকে যাতে শ্রমিক শ্রেণী কোনরকম চ্যালেঞ্জ করতে না পারে তার জন্যেই তো রাষ্ট্রকে ক্রমান্বয়ে শক্তিশালী করে যাওয়া হয়েছিল। এটা কি মিলিট্যান্ট লেখক জানেন না। আর যেহেতু তা রুশ রাষ্ট্রের পরিসরে হয়েছিল তাই এই সুবিধাভোগী আমলাতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গিগতভাবে জাতীয়তাবাদী হতে বাধ্য হয়েছিল। তার আরো কারণ ছিল বিশ্ব বিপ্লব রুশ শ্রমিক শ্রেণীকে জাগিয়ে তুলে তাকে আমলাতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিপ্লবে প্ররোচিত করতে পারে। তাকে ঠেকানোর জন্যেও তাই তাকে ‘দেশপ্রেমী' ‘জাতীয়তাবাদী' হতে হয়েছিল। আর তাছাড়া সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের ভয়ও ছিল। সুতরাং জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে আমলাতন্ত্র রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করেনি, বরঞ্চ তার বিশেষ সুবিধাভোগী অবস্থানকে টিকিয়ে রাখতে, তাকে ভিতরের ও বাইরের শত্রুদের হাত থেকে রক্ষা করতে তাকে রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করতে হয়েছিল এবং জাতীয়তাবাদী হতে হয়েছিল। এসব তো ট্রটস্কীবাদের অ, আ, ক, খ। মিলিট্যান্ট গোষ্ঠী এসব এখনও শেখেনি। অথচ তারা কবিতা কৃষ্ণাণকে জ্ঞান দান করছে এবং ট্রটস্কীবাদ সম্পর্কে ভুল ধারণা ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে।

ফ্যাসিবাদ-এর বিরুদ্ধে বুর্জোয়া দলগুলির ও সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলির সাথে সহযোগিতার রাজনৈতিক লাইন স্ট্যালিনবাদীরা আমদানি করেছে তাদের শ্রেণী সহযোগিতার রাজনীতির কারণে। স্ট্যালিনবাদীরা পুঁজিবাদের উচ্ছেদ চাইত না, গোটা বিশ্বে কোথাওই না। রাশিয়ায় পুঁজিবাদ আগেই উচ্ছেদ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আমলাতন্ত্র যখনই সেখানে একটা সুবিধাভোগী স্তর হিসেবে ক্ষমতা দখল করল, তখন থেকেই তারা স্থিতাবস্থার পক্ষে চলে যায়। অন্য দেশেও তারা পুঁজিবাদের উচ্ছেদ চাইত না। কেননা কোনো দেশে পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে শ্রমিক শ্রেণীর জয় আবার বিশ্ব বিপ্লবকে জাগিয়ে তুলতে পারে, জাগিয়ে তুলতে পারে রুশ দেশের শ্রমিকশ্রেণীকে। সেই বিপদকে তারা ডেকে আনবে কেন? সেই কারণে রূশী আমলাতন্ত্র পুঁজিবাদ বিরোধী বিপ্লবের বিপক্ষে ছিল। তারা গ্রহণ করেছিল শ্রেণী সহযোগিতার লাইন। আর তাই ফ্যাসিবাদ-এর বিরুদ্ধে ‘গণতান্ত্রিক' ও 'প্রগতিশীল' বুর্জোয়াদের সাথে যুক্তফ্রন্টের লাইন এসেছিল। শ্রমিকশ্রেণী ও মেহনতী মানুষের যুক্তফ্রন্টের ভিত্তিতে পুঁজিবাদ বিরোধী লড়াইকে সমাজতন্ত্রের অভিমুখে চালিত করে ফ্যাসিবাদ তথা পুঁজিবাদের উচ্ছেদ তাদের কাছে কাম্য ছিল না। শ্রমিকশ্রেণী যাতে কিছুতেই ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইতে অগ্রণী ভূমিকা রেখে পুঁজিবাদবিরোধী বিপ্লব সংঘটিত করতে না পারে, তাই তাকে নিয়ন্ত্রিত করতে, তার হাত পা বেঁধে ফেলতে এসেছিল বুর্জোয়া দলগুলির সাথে জোটবন্ধ হবার জন্য 'ন্যূনতম' বা 'বিনম্র' কর্মসূচী। অর্থাৎ তা পুঁজিবাদ উচ্ছেদের লক্ষ্যকে সামনে রাখবে না। শুধু 'গণতন্ত্র' ও 'সংবিধান' রক্ষার দাবিতেই তা সীমাবদ্ধ থাকবে। রুশী স্ট্যালিনবাদী আমলাতন্ত্র তাদের গোষ্ঠীগত স্বার্থেই এই লাইন নিয়েছিল। কোন ‘জাতীয়তাবাদী' রাজনীতির জন্যে নয়। মিলিট্যান্ট এটা কবে বুঝবে?

আর আন্তর্জাতিকভাবে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই। স্ট্যালিন তো চেয়েছিলেন ফ্যাসীবাদ ক্ষমতায় আসুক। তার মোটা মাথার পরিকল্পনা ছিল যে ফ্যাসিবাদকে পশ্চিমী সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়িয়ে দিতে পারলে রুশী আমলাতন্ত্র বেঁচে যাবে। তার জন্য এমনকি সেইসময়ে রাজনৈতিক তো বটেই, জার্মানীকে সামরিক সাহায্য দিতেও স্ট্যালিন পিছপা হননি। কিন্তু তার এই মোটা মাথার পরিকল্পনা যখন কাজে এল না, তখন তিনি পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদীদের সাথে ‘গণতান্ত্রিক’ ফ্রন্ট বানালেন। না, বিশ্বজোড়া শ্রমিক শ্রেণী ও মেহনতী মানুষের ফ্রন্ট নয়। সাম্রাজ্যবাদীদের সাথে ফ্রন্টই ফ্যাসিবাদী আক্রমণের হাত থেকে রাশিয়াকে বাঁচাবে এটাই ছিল স্ট্যালিনের মত। ‘গণতান্ত্রিক' সাম্রাজ্যবাদই হবে স্ট্যালিনীয় সমাজতন্ত্রের রক্ষাকর্তা। অভূতপূর্ব মার্কসবাদ।

মিলিট্যান্ট গোষ্ঠীকে বলবো — অনেক তো হল, এবার একটু তত্ত্বচর্চা শুরু করুন। স্ট্যালিনবাদী, মাওবাদীদের মত আর কতদিন মূর্খ হিসেবে দিন কাটাবেন?

আমলাতন্ত্র প্রসঙ্গে আরো কিছু কথা

মিলিট্যান্ট লেখক আমলাতন্ত্রের গৃহযুদ্ধের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের কথা বলেছেন। কিন্তু গৃহযুদ্ধ বলতে যেরকম বড়সড় লড়াই বোঝায় সেরকম কিছু ১৯২৭-২৮ বা তৎপরবর্তী পর্যায়ে রাশিয়ায় হয়নি। ট্রটস্কীও তাই বলেছেন। তিনি ছোট ছোট কিছু গৃহযুদ্ধের কথাই বলেছেন। আসলে সেই সময়ে আমলাতন্ত্রকে রুখে দেবার মত অবস্থায় রুশ শ্রমিক শ্রেণী ছিল না। বিশ্ব বিপ্লবের ব্যর্থতা ও রাশিয়ার ভিতরে চরম অর্থনৈতিক দুর্দশা এবং ১৯১৮-২১এর গৃহযুদ্ধের পর্যায়ে শ্রমিক শ্রেণীর অগ্রণী অংশের ব্যাপক সংখ্যায় মৃত্যুবরণের ফলে শ্রমিক শ্রেণীর মধ্যে চরম হতাশা, নিষ্ক্রিয়তা এবং হতোদ্যম ভাব দেখা দেয়। যার ফলে আমলাতন্ত্রকে তারা চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেনি। আর একটা ভয়ও তাদের মধ্যে কাজ করেছিল, তা হল – যদি আমলাতন্ত্রের সাথে শ্রমিক সাধারণের লড়াই শুরু হয় তবে দেশত্যাগী বুর্জোয়ারা এবং সাম্রাজ্যবাদীরা তার সুযোগ নিতে পারে।

আর তাছাড়া ট্রটস্কী বা বামবিরোধী পক্ষও সে সময়ে আমলাতন্ত্রকে উচ্ছেদের ডাক দেননি। তারা ১৯৩২ সাল পর্যন্ত মনে করতেন যে পার্টি এবং রাষ্ট্রের ভিতরে লড়াই চালিয়ে আমলাতন্ত্রকে পর্যুদস্ত করা যেতে পারে। ১৯২৭ সালে ট্রটস্কীকে রাশিয়া থেকে বার করে দেওয়া হলেও ট্রটস্কী ১৯৩২ পর্যন্ত এরকমটাই ভাবতেন। তাই আমলাতন্ত্রের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিপ্লবের আহ্বান তারা সেই সময়ে রাখেন নি। সুতরাং শ্রমিকশ্রেণীর অগ্রণী অংশের বিরুদ্ধে আমলাতন্ত্র যে গৃহযুদ্ধ চালিয়েছিল তা ছিল অনেকটাই একতরফা। এ বিষয়টা বোঝা দরকার। কেননা আমলাতন্ত্রের গৃহযুদ্ধের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের কথা বললে তা অন্যরকম ধারণা তৈরি করতে পারে, যা ইতিহাস না জানা ব্যক্তির মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করতে পারে।

শেষের কথা

স্ট্যালিনবাদীদের সাথে ট্রটস্কীবাদীদের যখন মতাদর্শগত বিতর্ক হয় তখন স্ট্যালিনবাদীরা দুটো রাস্তা নেয়। একটা হচ্ছে বিতর্ক সরাসরি এড়িয়ে যাওয়া এবং তারা সরাসরি ঘোষণা করে যে ট্রটস্কীবাদীরা হচ্ছে তত্ত্ববাগীশ এবং তারা হচ্ছে কাজের লোক। ‘জনগণের আন্দোলন' নিয়ে তারা ব্যস্ত, সুতরাং ট্রটস্কীবাদীদের বাজে কথার জবাব দেওয়ার সময় তাদের নেই। এই বলে মার্কসবাদের মৌলিক প্রশ্নের বিতর্ককে তারা এড়িয়ে যায়। কেননা তাদের তো জবাব দেবার মতন কিছু নেই। অন্যদিকে দ্বিতীয় যে রাস্তাটি তারা নেয়, তা হচ্ছে কুৎসার আশ্রয়। ট্রটস্কী সম্পর্কে চিরাচরিত যে মনগড়া, কাল্পনিক কুৎসার পাহাড় তারা জমিয়েছে তাকে তারা উগড়ে দিতে থাকে। স্ট্যালিনবাদীদের এসব অভ্যাসের সাথে আমরা দীর্ঘদিন পরিচিত।

মজার বিষয় হচ্ছে ভুয়া ট্রটস্কীবাদী মিলিট্যান্ট গোষ্ঠীও প্রকৃত ট্রটস্কীবাদীদের বিরুদ্ধে একই রাস্তা নিয়েছে। একদিকে আমরা যে প্রশ্নগুলি তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ছুড়ে যাচ্ছি সে সম্পর্কে তারা নীরবতার আশ্রয় নিয়েছে। কেননা ব্যাপারটা সেই একই। তাদের জবাব দেবার মতো কিছু নেই। তাদের ভুয়া ট্রটস্কীবাদ সম্পর্কে তারা ভালোভাবেই ওয়াকিবহাল। সুতরাং এসবের জবাব তারা দেবে কি করে? তাহলে তো তাদের মুখোশ খুলে যাবে। আবার অন্যদিকে প্রকৃত ট্রটস্কীবাদীদের নেতৃত্ব সম্পর্কে তারা ব্যক্তিগত কুৎসা রটিয়ে বেড়াচ্ছে। এমনকি মিলিট্যান্ট গোষ্ঠীর ফেসবুক বিপ্লবীরা এখন দলত্যাগী, বেইমান বলেও আমাদেরকে অভিহিত করছে। অথচ সকলেই জানে ২০১৫ সালে নদীয়ার শাস্তিপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সাথে যৌথ অনুষ্ঠান করার জন্য তারা পার্টি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিল। তাহলে দলত্যাগী বেইমান কারা? তৃণমুলের মতো একটা স্বৈরাচারী বুর্জোয়া দলের সাথে যারা যৌথ কার্যকলাপ চালায় তারা না আমরা? ট্রটস্কীবাদ-এর মৌলিক নীতি হচ্ছে কোন বুর্জোয়া দলের সাথে কোনরকম যৌথ কার্যকলাপ না করা। সেই নীতি থেকে যারা বিচ্যুত হল বেইমান তারা না আমরা? বিচারের ভার পাঠকের হাতে ছেড়ে দিলাম। দ্বিতীয়ত, স্ট্যালিনবাদীদের কায়দায় তারা এখন নিজেদের স্ট্রীটফাইটার' বলে দাবী করছে। দু-একটা পথসভা করলেই যদি স্ট্রীটফাইটার হওয়া যায় তবে এই দুনিয়ায় স্ট্রীটফাইটার নয় কে? এইসব সুবিধাবাদীরা সব এক ধরনেরই হয়। তর্কে এঁটে উঠতে না পেরে, এইসব অশিক্ষিত ভুয়া ট্রটস্কীবাদীরা তখন ‘স্ট্রীটফাইটার' হিসেবে নিজেদেরকে ভেবে স্বান্ত্বনা পাবার চেষ্টা করছে। তারা স্বান্তনা পাক ক্ষতি নেই। তবে জেনে রাখুন, মার্কসবাদী বিতর্কে যারা জায়গা ছেড়ে পালায়, শেষ পর্যন্ত তারা প্রতিবিপ্লবীদের শিবিরেই আশ্রয় নেয়। মিলিট্যান্ট গোষ্ঠীরও জায়গা হবে সেখানেই। শ্রীলঙ্কা সহ বিভিন্ন দেশে যেভাবে ভুয়া ট্রটস্কীবাদীরা প্রতিবিপ্লবী বনে গেছে তাদেরও সেই পরিণতি হতে আর বেশি দিন অপেক্ষা করতে হবে না।

সূচি

  • আমলাতন্ত্র প্রসঙ্গে আরো কিছু কথা
  • শেষের কথা