ইন্ডিয়া জোট – শ্রমিক শ্রেণী কোন চোখে দেখবে
জানুয়ারি ২০২৪

অবশেষে গঠিত হোল বিজেপি-বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির ইন্ডিয়া জোট। প্রথাগত বুর্জোয়া দল কংগ্রেস, তৃণমুল কংগ্রেস, আর জে ডি ইত্যাদি দল সহ ফ্যাসিবাদী শিবসেনা এবং স্ট্যালিনবাদী। সিপিআই, সিপিএম, সিপিআই (এম-এল) লিবারেশন সকলেই এখন
এই জোটের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। স্ট্যালিন কথিত পপুলার ফ্রন্টের এক আদর্শ উদাহরণ এই জোট। অবশ্য শিবসেনার উপস্থিতি থাকার কারণে তাকে কিভাবে দেখা হবে স্ট্যালিনবাদীরা আশা করি তার জবাব দেবেন।
বলাই বাহুল্য, আগামী লোকসভা নির্বাচনে 'ফ্যাসিবাদী' বিজেপিকে পরাস্ত করাই এই জোটের উদ্দেশ্য। একটা আশঙ্কা এখন অনেকের মধ্যেই কাজ করছে যে আগামী নির্বাচনে বিজেপি যদি জেতে তবে ভারতের পার্লামেন্টারী গণতান্ত্রিক কাঠামোর অবলুপ্তি ঘটবে এবং ভারতবর্ষ 'হিন্দুরাষ্ট্র' নামাঙ্কিত একটি ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত হবে। এ আশঙ্কা একেবারেই অমূলক নয়। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসবার পর থেকে যেভাবে একের পর এক অগণতান্ত্রিক কাজকর্ম সে চালিয়ে যাচ্ছে তা সেদিকেই ইঙ্গিত করছে। অগণতান্ত্রিক আইন চালু করা তো রয়েছেই, ইউএপিএ আইন সংশোধনের নামে তাকে আরো দানবিক করা, রাষ্ট্রদ্রোহ আইনের ক্ষেত্রেও সেই একই জিনিস দেখিয়ে দিচ্ছে রাষ্ট্রীয় দমন পীড়নকে সে আরো তীব্র করে তুলতে চায়। বিশেষ করে ন্যায় সংহিতা ইত্যাদির নামে সে বিভিন্ন আইনের খোল-নলচেই বদলে দিতে চাইছে।
কিন্তু শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের মধ্যেই ফ্যাসিবাদ সীমাবদ্ধ থাকে না। তা তো যে কোনো প্রথাগত বুর্জোয়া দলই করতে পারে। ফ্যাসিবাদীরা শ্রমিক শ্রেণীর তথা বামপন্থী আন্দোলন ও সংগঠন ভাঙার জন্য সমাজের মধ্য থেকে একটা পেটি বুর্জোয়া ফ্যাসিবাদী ঝটিকা বাহিনী গড়ে তোলে। বজরং দল, গোরক্ষা বাহিনী, বিজেপি যুব মোর্চা, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ ইত্যাদিরা হচ্ছে সেইসব ঝটিকা বাহিনী যাদের সাহায্যে বিভিন্ন আন্দোলন ও সংগঠন ভাঙার কাজ তারা চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিবাদী আন্দোলন দমন করবার জন্য তারা এদের ব্যবহার করছে। শুধু তাই নয়, ভারতীয় শ্রমিক-কৃষক-মেহনতী মানুষের মূল শত্রু পুঁজিপতি ও জমিদারদের আড়াল করবার জন্য যে কাল্পনিক শত্রু মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের হাজির করা হয়েছে তাদের সন্ত্রস্ত করা, হত্যা করা এবং কোণঠাসা করবার জন্যে এইসব ঝটিকা বাহিনীকে কাজে লাগানো হচ্ছে। এর ফলশ্রুতিতে আমরা দেখতে পাচ্ছি হরিয়ানার মতো দেশের বিভিন্নপ্রান্তে সংঘটিত দাঙ্গা হাঙ্গামা। এমনকী নিপীড়িত জাতিসত্ত্বাগুলি যাতে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াই না করতে পারে সে জন্য তাদের মধ্যে দাঙ্গা বাধিয়ে দিয়ে তাদেরকে বিভক্ত করার খেলাও ফ্যাসিবাদীরা শুরু করেছে। অসমে, মণিপুরে তাদের এই কাজের বিষাক্ত ফল ফলতে শুরু করেছে। মুসলিম সহ অন্যান্য সংখ্যালঘুদের চুপ করিয়ে দেওয়ার জন্য গোমাংস, লাভ জিহাদ ইত্যাদি বিভিন্ন অজুহাত বার করে তাদের নির্বিচারে তারা হত্যা করছে। আর এসবের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলেই তাদের দেশদ্রোহী, মাওবাদী ইত্যাদি আখ্যা দিয়ে ইউএপিএ বা দেশদ্রোহ আইনে তাদের জেলে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। প্রচুর উদারনৈতিক বুদ্ধিজীবী এই মুহূর্তে কারান্তরালে বাস করছেন। সুতরাং ফ্যাসীবাদের চুড়ান্ত আঘাত এবং পুরোপুরি ফ্যাসীবাদী রাষ্ট্র গড়বার যে আতঙ্ক আজ ছড়িয়ে পড়েছে, তাকে অসার বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
আর সেই আতঙ্ককে হাতিয়ার করেই গড়ে উঠেছে ইন্ডিয়া জোট। বলা হচ্ছে গণতন্ত্র রক্ষার্থেই এই জোট। বিজেপি দেশের গণতন্ত্র ও সংবিধানকে ধ্বংস করতে চায়, তার রক্ষার্থেই এই জোট। আরো এগিয়ে কেউ বলছেন এটা দ্বিতীয় স্বাধীনতার লড়াই। আসলে যাই বলা হোক না কেন এটা বাস্তব যে ভারতে যতই গণতন্ত্রের কথা বলা হোক না কেন তা বরাবরই খুব সীমিত আকারে ছিল। কেননা স্বাধীনতার পর থেকেই বিভিন্ন নামের বিনা বিচারে আটক আইন এখানে চালু ছিল, চালু ছিল আফস্পার মতো কুখ্যাত আইন যা উত্তর পূর্বের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারকে কোনদিনই মর্যাদা দেয়নি। শুধু তাই নয়, গোটা ভারতজুড়ে দলিত, নিম্নবর্ণের মানুষ, সংখ্যালঘু মানুষ বিভিন্ন রকম নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। ১৯৮৪ সালে শিখ দাঙ্গার কথা আমরা নিশ্চয়ই বিস্তৃত হইনি। আদিবাসী মানুষরাও কি খুব ভালো ছিলেন? তাদের দারিদ্র্যের কথা বাদই দিলাম, দেশের তথাকথিত 'উন্নয়নের' মাসুল দিতে তাদেরকে কি নির্বিচারে গৃহচ্যুত হতে হয়নি। পুঁজিবাদী আক্রমণের বোঝা কি বইতে হয়নি শ্রমিক-কৃষককে? স্বাধীনতার পূর্বে ও পরে সংগঠিত আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে যতটুকু অধিকার বা সুযোগ-সুবিধা তারা অর্জন করেছিলেন তা কি আবার উদার অর্থনীতির নাম করে তাদের কাছ থেকে কেড়ে নেবার প্রক্রিয়া আগেই শুরু হয়নি। পুঁজিপতিদের স্বার্থরক্ষার্থেই যে রাষ্ট্রায়ত্ত সেক্টরগুলি গড়ে তোলা হয়েছিল তাকি বিজেপির ক্ষমতা দখলের আগেই কংগ্রেসী ও বিরোধীদের জমানায় বেসরকারিকরণ করা শুরু হয়নি। আর এভাবে বিপন্ন করা হয়নি শ্রমিক-কর্মচারীদের স্থায়ী চাকরি ও সুযোগসুবিধাগুলিকে ? তাহলে হঠাৎ আজ শ্রমিক-কৃষক-মেহনতী মানুষদেরকে গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার জন্য আহ্বান করা হচ্ছে কেন? কংগ্রেসী ও তাদের জোটসঙ্গী বুর্জোয়া ও স্ট্যালিনবাদী দলগুলির জমানায় এইসব মানুষদের গণতন্ত্র ও সংবিধান কি দিয়েছে? ক্ষুধা-দারিদ্র্য-নিপীড়নই কি দেয়নি? গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার স্বাদ পেল না যে মেহনতী মানুষেরা তাকে রক্ষার জন্য তাদের উদ্বেলিত হবার কোন কারণ কি আছে?
ফ্যাসিবাদের উদ্ভবের কারণ কি?
ফ্যাসীবাদকে রুখতে গেলে তার উদ্ভবের কারণকে বুঝতে হবে, জানতে হবে তার চরিত্রকে এবং তাকে রুখবার পথ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে। তবেই তাকে রোখা যাবে। ফ্যাসীবাদী। বিজেপির উত্থান ভারতে ঘটেছে ৯০-এর দশকে, ১৯২৫ সালে আরএসএস তৈরি হলেও ৯০-এর দশকের আগে সে দেশজুড়ে কোন সাড়া ফেলতে পারেনি। কিন্তু এই সময়ে তার জনসমর্থন অর্জনের সাফল্যের পিছনে কারণ কি? আসলে স্বাধীনতার পরে স্ট্যালিনবাদী সিপিআই, সিপিএম সহ অন্যান্য বামপন্থী দলগুলি বিভিন্ন গণসংগ্রামের মধ্য দিয়ে শ্রমিক-কৃষক-মেহনতী মানুষের মধ্যে একটা ভিত্তি তৈরি করতে সমর্থ হয়েছিল। যদিও তারা কেউই বিপ্লবী দল ছিল না, সুতরাং সেই গণসংগ্রামগুলিকে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের লক্ষ্যে চালিত করবার কোন বাসনাও তাদের ছিল না, তবুও মেহনতী মানুষের মধ্যে তারা একটা বিকল্প হয়ে উঠতে পেরেছিল। মেহনতী মানুষ তাদের মাধ্যমে দিন বদলের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল। আর সেই কারণে সেই সময়ে ফ্যাসিবাদী শক্তি মাথাচাড়া দিতে পারেনি। আর তাছাড়া সেই সময়টা ছিল ভারতীয় পুঁজিবাদের বিকাশের সময় (অবশ্যই ইউরোপীয় মাত্রায় নয় )। সুতরাং ফ্যাসীবাদের মাথাচাড়া দেবার খুব অবকাশ কিছু ছিল না।
কিন্তু নব্বইয়ের দশক থেকে ভারতীয় পুঁজিবাদের সংকট শুরু হয়। আর তা থেকে আত্মরক্ষার জন্য তারা সেই সংকটের বোঝা মেহনতী মানুষের ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে শুরু করে। ফলতঃ মেহনতী মানুষ তো বটেই এমনকি পেটি বুর্জোয়া জনতাও সংকটের মধ্যে পড়ে। এই সময়ে প্রয়োজন ছিল সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের লক্ষ্যে শ্রমিক-কৃষক-মেহনতী মানুষের আন্দোলন গড়ে তোলা ও তাকে ক্রমশ বিপ্লবের লক্ষ্যে চালিত করা। এসব তো দূরস্থান, স্ট্যালিনবাদীরা তার অনেক আগেই ষাটের দশক থেকেই তাদের গণভিত্তিকে ব্যবহার করে পুঁজিবাদী ব্যবস্থার ম্যানেজারি (অর্থাৎ সরকার গঠন করা) করতে শুরু করে দেয়। এর জন্য তারা স্ট্যালিনবাদী পপুলার ফ্রন্টের নীতি গ্রহণ করতে শুরু করে এবং শ্রমিক-কৃষক-মেহনতী মানুষের উপর নির্যাতন-নিপীড়ন শুরু করে। তার অনিবার্য ফলশ্রুতিতে মেহনতী মানুষের মধ্যে তাদের সমর্থন দ্রুত কমতে শুরু করে। আর ২০০৮ সালে যখন বিশ্বব্যাপী ধনতান্ত্রিক সংকট শুরু হল এবং তার ধাক্কা ভারতে এসে পড়ল, তখন ধনতন্ত্রের রক্ষাকর্তা ফ্যাসীবাদীরা জোরকদমে ময়দানে নেমে পড়ল। মেহনতী জনগণ যাদেরকে এক সময় বিকল্প ভাবত তারা ইতিমধ্যেই মেহনতী মানুষের এবং ক্রমশ সংকটগ্রস্ত পেটি বুর্জোয়াদেরও সমর্থন হারাতে শুরু করেছে। কাজেই ফ্যাসিবাদীরা সেই শূন্যস্থান দ্রুত দখল করতে শুরু করল। সুতরাং এটা বোঝা দরকার যে ফ্যাসীবাদের আজ এত রমরমার মূল কারণ হচ্ছে স্ট্যালিনবাদীদের বেইমানি এবং পুঁজিবাদের দালালির কার্যক্রম, যা মেহনতী মানুষ এবং সংকটগ্রস্ত পেটি বুর্জোয়াদের বিপ্লবের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবার পরিবর্তে ঠেলে দিয়েছে ফ্যাসিবাদের দিকে। সুতরাং এই সত্য ও বাস্তবতা আমাদের বিস্তৃত হলে চলবে না।
এটাই যদি হয় ভারতে ফ্যাসীবাদের উত্থানের পটভূমি, তবে ফ্যাসীবাদকে রুখবার কার্যক্রম কি হবে? ইন্ডিয়া জোট কি এ ব্যাপারে কোন সদর্থক ভূমিকা রাখতে পারে? তার মাধ্যমেই কি ফ্যাসীবাদ-বিরোধিতার লড়াই শুরু করতে হবে? পরবর্তীতে তাকে আরো সম্প্রসারিত করতে হবে -- যেভাবে বলে স্ট্যালিনবাদীরা! না একেবারেই নয়।
ফ্যাসীবাদকে রুখবার পথ কি হবে?
ভারতে ফ্যাসীবাদের আবির্ভাব ঘটেছে কি কারণে তা আমাদের বুঝতে হবে পরিষ্কারভাবে। বামপন্থীদের বা শ্রমিক আন্দোলনের ব্যর্থতা ফ্যাসীবাদের পালে হাওয়া লাগিয়েছে একথা ঠিকই, তবে জার্মানী, ইতালি বা স্পেনে ফ্যাসিবাদের উত্থানের পটভূমির সাথে ভারতের ফ্যাসীবাদের উত্থানের পটভূমির কিছুটা ফারাক আছে। জার্মানী, ইতালি বা স্পেনে শক্তিশালী শ্রমিক সংগঠন বা আন্দোলনের অস্তিত্ব ছিল। এমনকি সেখানে শ্রমিক আন্দোলন ক্ষমতা দখলের দিকে পদক্ষেপও করেছিল, কিন্তু সোস্যালিস্ট পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টি এবং নৈরাজ্যবাদীদের বেইমানির ফলে ইতালি, জার্মানী ও স্পেনে শ্রমিক শ্রেণী ব্যর্থ হয়। শ্রমিক বিপ্লবের সেই ধ্বংসস্তূপের উপর দাঁড়িয়ে পুঁজিবাদী সংকট থেকে পুঁজিবাদকে রক্ষা করতে সেখানে ফ্যাসীবাদীরা ক্ষমতা দখল করে এবং শ্রমিক সংগঠন ও আন্দোলনের পুনরুত্থানের সম্ভাবনা রোধ করতে তাকে ভেঙে চুরমার করে দেয়।
ভারতে কিন্তু শ্রমিক আন্দোলন কিছুটা শক্তিশালী হলেও তা ঐসব দেশের মত বিপ্লবাত্মক চেহারা নেয়নি, ক্ষমতা দখলের কোনরকম প্রচেষ্টা নেওয়া তো দূরের কথা। বরঞ্চ স্ট্যালিনবাদীদের পুঁজিবাদী ব্যবস্থার ম্যানেজারি করার কারণে (অর্থাৎ সরকার গঠনের ফলে) শ্রমিক আন্দোলন আরো দুর্বল হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় ফ্যাসিবাদের উত্থান হয়েছে শ্রমিক আন্দোলনের সেই দুর্বল অবস্থাকেও সহ্য না করে তাকে একেবারে ধ্বংস করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে। কেন? যে শ্রমিক আন্দোলন পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে বিপ্লব তো দূরের কথা কোনরকম প্রতিরোধ গড়ে তুলতেই পারেনি, তার বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদীরা এত খড়্গাহস্ত কেন ? আসলে ভারতবর্ষ কোন সাম্রাজ্যবাদী উন্নত পুঁজিবাদী দেশ নয়। বরঞ্চ সাম্রাজ্যবাদের চাপিয়ে দেওয়া বিভিন্ন বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার শিকার তাকে হতে হয়। যেমন গ্যাচুক্তি। তাই ভারতবর্ষের পুঁজিপতিরা তাদের কাঙ্ক্ষিত মুনাফালাভে সফল হতে পারে না। সাম্রাজ্যবাদীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা তো দুরের কথা, বরঞ্চ তাদের বঞ্চনার শিকার তাকে হতে হয়, আর এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ২০০৮ পরবর্তী তীব্র অর্থনৈতিক সংকট। যার ফলে চাহিদার ক্রমসংকোচনের কারণে উৎপাদন কমাতে হয়েছে, সুতরাং মুনাফার সংকট পুঁজিবাদকে গ্রাস করছে। এই অবস্থায় তার মুনাফা বজায় রাখা ও তাকে আরো বাড়ানোর জন্য তাদের ফ্যাসীবাদী রাস্তাকে বেছে নিতে হয়েছে। যেখানে শ্রমিক আন্দোলন ও শ্রমিক সংগঠনের কোন উপস্থিতিকেই সহ্য করা হবে না ।
সুতরাং এই যখন পরিস্থিতি তখন 'ইন্ডিয়া' জোটের কার্যকারিতা কি হবে? ‘পার্লামেন্টারি গণতন্ত্র' রক্ষায় শ্রমিক শ্রেণীর আগ্রহ কতটা থাকবে বা থাকা উচিত? এটার একটা সালতামামি কথা যাক।
স্ট্যালিনবাদীদের কু-যুক্তি
ঠিক এইখানেই স্ট্যালিনবাদীরা নানারকম কুযুক্তি নিয়ে হাজির হয়েছে। তারা বলছে কমিউনিস্টরা কি গণতন্ত্র রক্ষার অগ্রণী সৈনিক নয়? ফ্যাসিবাদীরা যখন 'গণতন্ত্রকে সম্পূর্ণভাবে হত্যা করছে, তখন কমিউনিস্টরা কি তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে যাবে না? ফ্যাসীবাদী শাসনের তুলনায় পার্লামেন্টারী গণতন্ত্র কি বেশি কাম্য নয়? তা কি শ্রমিক আন্দোলন গড়ে তোলবার ক্ষেত্রে বেশি সুবিধাজনক নয়, ইত্যাদি ইত্যাদি।
একথা ঠিকই যে কংগ্রেস বা বিভিন্ন বুর্জোয়া দলগুলি যতই স্বৈরাচারী হোক না কেন তারা ফ্যাসিবাদী নয়। যদিও স্ট্যালিনবাদীরা সকলকেই ফ্যাসিবাদী বলে গাল পাড়তে অভ্যস্ত, এমনকি মাওবাদীরা তো স্ট্যালিনবাদীদেরও 'সামাজিক-ফ্যাসিবাদী' বলে আক্রমণ শানায়, তবে বাস্তবটা হচ্ছে এটাই যে আরএসএস-বিজেপি-শিবসেনারাই হচ্ছে ভারতে ফ্যাসিবাদী দল। কাজেই স্ট্যালিনবাদীদের আগে ফ্যাসীবাদ কাকে বলে সেটাই ভালো করে বোঝার প্রয়োজন রয়েছে। তারপরে তো তাকে রোখার কথা তারা ভাববে। তারা যে এসব ঠিকঠাক বোঝে না তার অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। ১৯৭২ সালে প:বঙ্গে যখন কংগ্রেস স্বৈরাচার কায়েম করেছিল, স্ট্যালিনবাদী সিপিএম তাকে বলেছিল আধা ফ্যাসিবাদ। ১৯৭৫ সালে ইন্দিরা গান্ধী জরুরী অবস্থা জারি করলে তাকে পরাস্ত করার জন্য সিপিএম ও নকশালপন্থীরা আরএসএসের হাত ধরেছিল। সে সময়ে যে জনতা পার্টিকে তারা সমর্থন দিয়েছিল তাতে ফ্যাসিবাদী জনসংঘ বড় শরিক হিসেবে ছিল। সেই জনতা সরকারকে সিপিএম ও নকশালপন্থীরা সমর্থন দিয়েছিল। ১৯৮৯ সালে কংগ্রেসত্যাগী ভিপি সিংকে মদত করেছিল বিজেপি এবং সিপিএম। তাহলে সেই সময়ে কংগ্রেস বিরোধিতার নামে বিজেপি ও আরএসএসকে মদত করেছিল। স্ট্যালিনবাদীরা। তাদেরকে জনসমক্ষে ‘সংগ্রামী' হিসেবে তারা তুলে ধরেছিল। আর তাকে কাজে লাগিয়েই বিজেপি তার জনসমর্থন বাড়িয়ে নিয়েছিল। এভাবেই ফ্যাসীবাদের পালে হাওয়া জুগিয়েছিল স্ট্যালিনবাদীরা। তাকে শক্তিশালী হতে সাহায্য করেছিল। অর্থাৎ ফ্যাসীবাদ সম্পর্কে তাদের কোন ধারণাই ছিল না। ফ্যাসীবাদের ভয়াবহতা তারা উপলব্ধিই করতে পারেনি। এ ব্যাপারে নকশালপন্থীরাও পিছিয়ে ছিল না। তাদের বিভিন্ন গোষ্ঠী বিভিন্ন সময়ে বিজেপির সাথে যৌথ কার্যক্রম চালিয়েছে। সেটাও ‘গণতন্ত্র রক্ষা'র স্বার্থে বলেই তারা দাবি করেছিল। কাজেই আজ যখন ফ্যাসীবাদকে রোখবার নামে তারা সমস্ত বুর্জোয়া দলের সাথে হাত মেলাচ্ছে, ডাক দিচ্ছে পার্লামেন্টারী গণতন্ত্র রক্ষার, (যাকে ধ্বংস করার কথা নকশালপন্থীরা এবং এক সময় স্ট্যালিনবাদীরা বলত) এমনকি দ্বিতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধের, তখন আমাদের একটু থমকে দাঁড়িয়ে তাদের দাবীকে খতিয়ে বিবেচনা করা দরকার। আসলে ফ্যাসীবাদ যা করে তা হল রাজনৈতিক ক্ষমতা থেকে বুর্জোয়াদের অপসারণ করে পেটি বুর্জোয়াদের ক্ষমতারোহণ সে সম্পন্ন করে। তাই বুর্জোয়া পার্টিগুলি ফ্যাসীবাদের বিরুদ্ধে হইচই বাধায়। কিন্তু ফ্যাসীবাদ যেহেতু পুঁজিপতিদেরই সেবা করে, তাই তারা কখনোই ফ্যাসীবাদকে চূড়ান্তভাবে বিরোধিতা করতে পারে না। ফ্যাসীবাদকে আমুল উচ্ছেদ করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ ফ্যাসীবাদ পুঁজিবাদী অর্থনীতিরই সেবা করে, যা তাদেরও কার্যক্রমের মধ্যে পড়ে। সুতরাং ফ্যাসীবাদকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখার বেশি আর কিছু করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। কেননা পুঁজিবাদের সংকটের সময় এই ফ্যাসীবাদই তাদের সবচেয়ে ভালোভাবে সেবা করতে পারে। আমাদের বোঝা দরকার যে আরএসএস গান্ধীকে হত্যা করেছিল তার বিরুদ্ধে সামান্য কিছু লোক দেখানো ব্যবস্থা নিয়েই কেন কংগ্রেস সরকার তাকে ছেড়ে দিয়েছিল। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের সময় কেন্দ্রীয় সরকার কেন নীরব দর্শক হয়ে বসেছিল। এমনকি গুজরাট গণহত্যার সময়ও তারা কেন দেশজুড়ে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলনে সামিল হয়নি। আসলে পুঁজিবাদের নিজের স্বার্থরক্ষার্থে এই ফ্যাসীবাদী বাহিনীকে তাদের রক্ষা করতে হবে এবং সংরক্ষিত শক্তি হিসেবে তাদেরকে টিকিয়ে রাখতে হবে। তাই অতীতের কংগ্রেস সরকারগুলি তাকে ঘাটায়নি। আমরা যেন ভুলে না যাই। বম্বেতে শিবসেনার মুসলিম বিরোধী দাঙ্গার সময়ও কংগ্রেসের ভূমিকা আলাদা কিছু ছিল না। অথচ সেই ফ্যাসিবাদী শিবসেনাই আজ ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম শরিক। তাহলে এই কংগ্রেস ও তার জোটসঙ্গীরা ফ্যাসিবাদকে রুখবে কি করে? কংগ্রেসের এইসব জোটসঙ্গীরা তো বিভিন্ন সময়ে বিজেপির সাথে বিভিন্ন রকম জোটে সামিল হয়েছিল এবং যে কোন সময়ে তারা বিজেপির সাথে আবার জোট তৈরিতে সামিল হতে পারে, এদের ফ্যাসিবাদ বিরোধিতার কোন নৈতিক ভিত্তিই নেই। শিবসেনার মত একটা ফ্যাসিবাদী দলের সাথে জোট তৈরি করে কেউ কি করে ফ্যাসিবাদ বিরোধিতার কথা বলতে পারে? ভাবের ঘরে চুরি তো একেই বলে।
কিছু উদারনৈতিক বুর্জোয়া বুদ্ধিজীবী বিজেপির ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। এর কারণ কি? আসলে পার্লামেন্টারী গণতন্ত্রের সাথে এদের জীবন-জীবিকা বিভিন্নভাবে জড়িয়ে রয়েছে। সেইসব ক্ষেত্রেও ফ্যাসিবাদীরা আজ হামলা চালাচ্ছে। তাই তারা এর বিরুদ্ধে সোচ্চার। কিন্তু ফ্যাসীবাদ যাকে রক্ষার জন্য এসব করছে সেই পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে, তাকে উচ্ছেদ করতে তাদের কোন প্রচেষ্টা তো দূরের কথা, কোন বক্তব্যও নেই। গণতন্ত্রের পরিসরটাকে বিজেপি একেবারেই সংকুচিত করে ফেলেছে, তাকে টেনে একটু বড় করে দাও, ব্যস তাহলেই হবে। শ্রমিক-কৃষক-মেহনতী মানুষের উপর দমন-পীড়ন, অত্যাচার যেরকম চলছিল সেরকমই চলতে থাকবে, তাতে তাদের কোন অসুবিধা নেই।
না, শ্রমিক-কৃষক-মেহনতী মানুষের উপর অত্যাচারী, দমনকারী ঐ পার্লামেন্টারী গণতন্ত্র নিয়ে শ্রমিক শ্রেণী, মেহনতী মানুষের কোন মাথাব্যথা নেই। এই ব্যবস্থা তাদের মানুষের মত বেঁচে থাকার কোন সুযোগ দেয়নি, শ্রমদাসত্বে তাদের আবদ্ধ করে রেখেছে। সেই দাসত্ব থেকে মুক্তির যে কোন প্রচেষ্টাকেই নির্মমভাবে দমন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ফ্যাসিবাদী বা 'গণতন্ত্রী দের মধ্যে কোন ফারাক চোখে পড়েনি। তাই তথাকথিত 'পার্লামেন্টারী গণতন্ত্র' রক্ষার্থে শ্রমিক শ্রেণীর কোন স্বার্থ থাকতে পারে না।
তবে শ্রমিক শ্রেণী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কিভাবে লড়বে?
ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে শ্রমিক শ্রেণীকে তো অবশ্যই লড়তে হবে। আর লড়াইটা আসলে তারই লড়াই, কেননা ফ্যাসিবাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে পুঁজিপতিদের মুনাফাকে রক্ষা করা এবং তাকে আরো সম্প্রসারিত করা, আর তার জন্য শ্রমিক শ্রেণীর সংগঠন ও আন্দোলন চূর্ণ করে দেওয়াই হচ্ছে ফ্যাসীবাদের লক্ষ্য। কাজেই শ্রমিক-শ্রেণীকেও লড়তে হবে শ্রমিক গণতন্ত্রের জন্য অর্থাৎ তার সংগঠনকে রক্ষা করা ও তাকে আরো সম্প্রসারিত করে সোভিয়েত সংগঠন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য। কোন পার্লামেন্টারী গণতন্ত্র রক্ষা তার কাজ হতে পারে না। শ্রমিক-শ্রেণী যখন লড়ে সে তার নিজস্ব কায়দাতেই লড়ে। আর তা হচ্ছে সোভিয়েত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। শ্রমিক-শ্রেণী যখন ফ্যাসীবাদের বিরুদ্ধে লড়তে নামে সে তার লড়াইকে মাঝপথে থামিয়ে দিতে পারে না। ফ্যাসিবাদী অর্থনীতি যা আসলে পুঁজিবাদী অর্থনীতি, তাকে উচ্ছেদ না করে সে অস্ত্র নামিয়ে রাখতে পারে না। যারা শ্রমিক শ্রেণীকে মাঝপথে থামিয়ে দিতে চায় সেই বেইমান স্ট্যালিনবাদী ও মাওবাদীরা আজ বুর্জোয়াদের দালালি করতে ময়দানে হাজির হয়েছে, তাদের লেজুড়বৃত্তি তারা করে চলেছে। কিন্তু এদের প্রতারণাতে ভুললে চলবে না। সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব-এর মাধ্যমেই ফ্যাসিবাদ এবং এই প্রতারকদের যোগ্য জবাব দিতে হবে। স্ট্যালিনবাদীদের এই প্রতারণা কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে! পঃবঙ্গে তারা বলে বিজেপি ও তৃণমুলের চরিত্র একই। অর্থাৎ ফ্যাসিবাদী দল এবং প্রথাগত বুর্জোয়া দলের ফারাকই তারা বোঝে না। অথচ তারাই আবার ‘ইন্ডিয়া' জোটে তৃণমূলের সাথে আছে। যদি এই দুই দলের মধ্যে কোন ফারাকই না থাকে তবে বিজেপির বিরুদ্ধে তারা তৃণমূলের সাথে জোটবদ্ধ হয়েছে কেন ? আবার সেই জোটে থেকেও তার সমন্বয় কমিটিতে না থেকে এমন একটা ভান করছে যেন তারা কতবড় বিপ্লবী। যদি সত্যিকারের বিপ্লবীই তারা হোত তবে ইন্ডিয়া জোটেই তারা থাকত না। আর কংগ্রেসের সাথে বা অন্যান্য বুর্জোয়া দলের সাথে তৃণমূলের ফারাকই বা কোথায় ? সুতরাং সমন্বয় কমিটিতে না থেকে বিপ্লবী সাজার যে চেষ্টা স্ট্যালিনবাদী সিপিএম করছে তা একটা সস্তা নাটক ছাড়া কিছু নয়। স্ট্যালিনবাদীরা এইসব নাটক করেই শ্রমিক শ্রেণীর মধ্যে বিভ্রান্তি আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে।
অন্যদিকে মিলিট্যান্ট গোষ্ঠীর ভূয়া ট্রটস্কীবাদী ব্যক্তিরাও নানারকমের বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে। তারা দাবী করছে যে ফ্যাসীবাদের বিরুদ্ধে পপুলার ফ্রন্ট গড়াটাই আজকের দিনের বাস্তবতা। তাদের দাবী অনুযায়ী যেহেতু শ্রমিক শ্রেণী ভারতে বিপ্লব করার মত অবস্থায় নেই তাই ‘পার্লামেন্টকে রক্ষা করতে হবে' । সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের মাধ্যমে ফ্যাসীবাদকে রোখার এই মুহূর্তে যেহেতু কোনরকম সম্ভাবনা নাকি নেই তাই এটাই নাকি বর্তমানে আমাদের কর্তব্য। এইসব নির্বোধ, জড়বুদ্ধিগুলো নিজেদের ট্রটস্কীবাদী বলে দাবী করে! জার্মানী, ইতালি, স্পেন কোথাওই তো বিপ্লবের মাধ্যমে ফ্যাসীবাদকে রোখবার সম্ভাবনা ছিল না, কেননা বেইমান সমাজতন্ত্রী, স্ট্যালিনবাদী এবং নৈরাজ্যবাদীদের কল্যাণে সব জায়গাতেই তো বিপ্লবের দফারফা হয়ে গিয়েছিল, তাই বলে ট্রটস্কী কি পপুলার ফ্রন্টকে সমর্থন করেছিলেন? করেননি তো। তাহলে ভুয়া ট্রটস্কীবাদীরা এসব কথা ট্রটস্কীর নাম করে বলে বেড়াচ্ছে কেন? বিপ্লবের আশু সম্ভাবনা না থাকলেও ফ্যাসীবাদের বিরুদ্ধে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের কথা আমাদের বলতেই হবে, কেননা ফ্যাসীবাদকে উচ্ছেদের এছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই। পার্লামেন্ট রক্ষার কথা বলে ফ্যাসীবাদের অগ্রগতি রোধ করা সম্ভব নয়। ফ্যাসীবাদকে রুখবার লড়াইতে নেতা হচ্ছে শ্রমিক শ্রেণী। সে যখন লড়তে নামবে তখন সে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব না করে মাঝপথে থামবে না। ফ্যাসীবাদী স্বৈরতন্ত্রের বিকল্প হিসেবে শ্রমিক শ্রেণী কায়েম করবে সোভিয়েত গণতন্ত্র যা সমাজতন্ত্র ছাড়া অন্য কিছু নয় । ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে পার্লামেন্টকে রক্ষার কথা যারা বলে তারা আসলে ফ্যাসীবাদ বিরোধী লড়াইতে বুর্জোয়া নেতৃত্বের কথা বলে। বুর্জোয়াদের দালাল তারা। স্ট্যালিনবাদী থেকে শুরু করে ভুয়া ট্রটস্কীবাদীরা -- এরা সকলেই বুর্জোয়াদের দালাল ছাড়া অন্য কিছু নয় ৷
মনে রাখতে হবে মানব সমাজের সামনে আজকের মূল সমস্যা হিসেবে ট্রটস্কী চিহ্নিত করেছিলেন কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে তোলার সমস্যাকে। যা বুর্জোয়াদের থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন না হলে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। শ্রমিকশ্রেণীকে বুর্জোয়া শ্রেণীর থেকে বিচ্ছিন্ন করেই শ্রমিক শ্রেণীর মধ্যে কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে উঠতে পারে, অন্যথায় তা সম্ভব নয়। তাই বুর্জোয়াদের সাথে কোন সমঝোতা নয়, সম্পূর্ণভাবে তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। গড়ে তুলতে হবে কমিউনিস্ট পার্টি। সেই পার্টিই শ্রমিকশ্রেণী তথা মেহনতী মানুষদের সমস্ত স্তরকে নেতৃত্ব দেবে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পথে এগিয়ে গিয়ে মানব সমাজকে মুক্ত করতে। ফ্যাসীবাদ এই পথে একটা বাধা, যা পুঁজিবাদকে বাঁচিয়ে রাখতে বুর্জোয়াদের হাতিয়ার। তাকে ভেঙে গুড়িয়ে দিয়ে সমাজতন্ত্রের লক্ষ্যে কমিউনিস্ট পার্টি এগিয়ে যাবে। ‘পার্লামেন্টকে রক্ষা কর' এটা শ্রমিকশ্রেণীর শ্লোগান হতে পারে না। তার শ্লোগান হবে-- ফ্যাসীবাদকে উচ্ছেদ করে সোভিয়েত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা কর। প্রতিষ্ঠা কর সমাজতন্ত্র। এটাই মার্কসবাদ-লেনিনবাদ ও ট্রটস্কির চিন্তাধারা। এই পথেই এগোতে হবে আমাদের তথা মানব সমাজকে ৷
